আদ্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ একটা লোক: ধনখড়কে নিশানা মমতার

WhatsApp-Image-2021-06-28-at-10.32.36-PM.jpeg

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী দ্বৈরথে নতুন মোড়। এ বার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম।
মমতা সোমবার বলেন, ‘রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় একজন দুর্নীতিগ্রস্ত লোক।’ তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৬-এ একটি ডেয়ারি সংক্রান্ত জৈন হাওয়ালায় জড়িত ছিলেন ধনখড়।
এ দিন দুপুরে মমতা বলেন, ‘এই রাজ্যপালের নাম জৈন হাওয়ালা মামলায় ছিল। কিন্তু ওরা কোর্টে গিয়েছিল। সেখান থেকে নাম ক্লিয়ার করে এসেছে। একটি জনস্বার্থ মামলা আছে। কী জানতে চান? বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু উনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। আদ্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ। কেন্দ্র এমন একজনকে রাজ্যপাল করল কেন? চার্জশিট বের করে দেখুন ওখানে ওঁর নাম ছিল কি না।’
রাজ্যপালের সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফরকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বলেও মমতা অভিযোগ করেন। দাবি করেন, তিনি কেবল বিজেপির সাংসদ, বিধায়কদের সঙ্গেই দেখা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘উনি হঠাৎ উত্তরবঙ্গে গেলেন কেন? আমি উত্তরবঙ্গ ভাগ করার একটা চক্রান্ত টের পাচ্ছি।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহলকে আলাদা রাজ্য করার দাবি জানিয়েছেন কিছু বিজেপি নেতা।
প্রত্যাশিত ভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ খারিজ করেছেন রাজ্যপাল। প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন। সাংবাদিকদের ধনখড় জানিয়েছেন, মমতার অভিযোগে তিনি ‘স্তম্ভিত’। তাঁর বক্তব্য, ‘আপনাদের রাজ্যপালের নাম কোনও চার্জশিটে নেই। এমন কোনও তথ্য নেই। এই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবেরও কোনও যোগ নেই। এটা সরাসরি একটা মিথ্যা, ভুল তথ্য। একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিকের কাছ থেকে এটা আশা করিনি।’
বছর তিনেক আগে ধনখড় রাজ্যপাল হয়ে আসেন। তার পর থেকে দুই প্রধান কার্যত নিরলস ভাবে লড়ে চলেছেন। মমতা ও তৃণমূল ধনখড়ের বিরুদ্ধে বিজেপির অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী চলার অভিযোগ করে।
তৃতীয় বারের জন্য মমতা ক্ষমতায় আসার পরেই লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন ধনখড়। তাঁর শপথের পর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন। আজ, সোমবার এর প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ‘যে সরকার বিপুল ভাবে জিতেছে, তাকে রাজ্যপাল নির্দেশ দেবেন কেন?’
ধনখড়কে রাজ্যপাল পদ থেকে সরানোর জন্য একাধিক বার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘সংবিধান মেনে ওঁর সঙ্গে দেখা করা, কথা বলা, সৌজন্য বজায় রাখা চলবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের আমার চিঠি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা উচিত।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তিনবার চিঠি দিয়েছেন মমতা। সম্প্রতি সে কথাও জানান।
দুই প্রধানের পরবর্তী গোলমালের ক্ষেত্রও প্রস্তুত বলে অনেকের মত। সেটা সম্ভবত আগামী ২ জুলাই বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণ ঘিরে। রাজ্য এ সংক্রান্ত খসড়া পাঠিয়েছে রাজ্যপালের কাছে। তা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা করতে চান ধনখড়।
সেই সম্ভাব্য সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিয়েছেন ধনখড় নিজেই। তাঁর কথায়, ‘রাজ্য সরকার যা পাঠাবে, তা পড়তে রাজ্যপাল বাধ্য নন। অসাংবিধানিক কিছু লিখে দিলে কি আমি তা পড়ব নাকি?’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top