‘আই অ্যাম নট মালালা’, মালালা ইউসুফজাইয়ের বিরুদ্ধে তথ্যচিত্রে স্কুলে প্রচার পাকিস্তানে

WhatsApp-Image-2021-07-13-at-3.16.31-PM.jpeg

Onlooker desk: মালালা ইউসুফজাইয়ের বিরুদ্ধে তথ্যচিত্র দেখানো শুরু করল পাকিস্তানের প্রাইভেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশন। ইসলাম ও বিয়ে নিয়ে মালালার ‘বিতর্কিত’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং পশ্চিমি দর্শনের বিরোধিতায় তৈরি হয়েছে ওই তথ্যচিত্র। সোমবার, তাঁর ২৪তম জন্মদিনের দিনই এই ছবি দেখানোর কাজ শুরু হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের লেখাপড়ার অধিকারের দাবিতে লড়াই চালাচ্ছেন মালালা। তার স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৪-য় নোবেল শান্তি পুরস্কারও পান তিনি। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭। কনিষ্ঠতম নোবেল প্রাপক হিসাবে রেকর্ডে নাম রয়েছে এই তরুণীর। ভারতের কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথ ভাবে সে বার নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতেন মালালা।
যে তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে, তার নাম ‘আই অ্যাম নট মালালা।’ প্রসঙ্গত, মালালার লেখা বইয়ের নাম ‘আই অ্যাম মালালা।’ পাকিস্তানের দু’লক্ষ বেসরকারি স্কুলের ২০ মিলিয়ন ছাত্রছাত্রীকে তা দেখা হবে। এবং মালালার নানা ‘বিতর্কিত’ দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরা হবে। দ্য অল পাকিস্তান প্রাইভেট স্কুলস ফেডারেশনের সভাপতি কাশিফ মির্জা এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা নবীন প্রজন্মের সামনে মালালার প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে চাই। যাতে নারীর অধিকারের জন্য তাঁর তথাকথিত লড়াইয়ে নতুন প্রজন্ম প্রভাবিত না হয়। গুলবার্গে নিজের অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানান মির্জা।
মালালার দৃষ্টিভঙ্গি ‘বিতর্কিত’ কেন? মির্জার দাবি, ওই তরুণী ‘পার্টনারশিপে’ বিশ্বাসী। যা ইসলাম-বিরোধী। হজরত মহম্মদ এই ধারণাকে ব্যভিচার বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বিয়ের প্রতিই আস্থা জানিয়েছেন। তাই মালালার দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেওয়া যায় না বলে মির্জার ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, ‘মালালা বিবাহের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে খারিজ করেন। তাঁর মতে বিয়ের চেয়ে সখ্যতা ভালো! বিয়ে ও পরিবারের ধারণার বদলে তিনি পাপের দিকে মানুষকে ঠেলে দিতে চান। কোনও দু’জন মুসলিমের বিয়ে ছাড়া সহবাস কখনও মেনে নেওয়া যায় না।’
‘আই অ্যাম মালালা’ বই নিয়েও মির্জার ঘোরতর আপত্তি। সেখানেও ইসলাম-বিরোধী নানা কথা লেখা বলে তাঁর দাবি। কোরানেরও বহু শিক্ষাকে নাকচ করার ‘ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছেন মালালা। এমনকী, মহম্মদ আলি জিন্নাহ ও পাকিস্তান সেনারও বিরোধিতা করা হয়েছে।
মির্জার কথায়, ‘পশ্চিমিদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে বইটি লেখা। ওরা মালালাকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছে। ইসলাম এবং পাক সেনাকে মালালা তাঁর বিতর্কিত বইয়ে সন্ত্রাসবাদী বলেছেন। তিনি কোরানেরও অনেক শিক্ষার সমালোচনা করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, দু’জন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান। বা ধর্ষণের ঘটনায় অন্তত চারজন সাক্ষী দরকার।’
মালালার সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের ছবি থেকে তাঁর কাজের ‘নকশা’ পরিষ্কার হয় বলেও ইঙ্গিত মির্জার। এমনকী, বিবিসি-তে গুল মাকাই নামে মালালা যে ব্লগ লেখেন, তা-ও অন্য কারও লেখা বলে দাবি করা হচ্ছে। কারণ, তখনও মালালা লিখতে পড়তে পারতেন না।
এর সমর্থনে প্রমাণও হাজির করেন মির্জা। তিনি বলেন, ‘একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মালালার বাবা জিয়াউদ্দিনই এ কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ওই ব্লগ বিবিসির প্রতিনিধি আব্দুল হাই কাকারের লেখা। আর ‘আই অ্যাম মালালা’ লেখেন ক্রিস্টিনা ল্যাম্ব।’
সোমবার পাকিস্তান জুড়ে বেসরকারি স্কুলে রীতিমতো ‘আই অ্যাম নট মালালা’র দিন পালিত হয়। তরুণীর পশ্চিমি ভাবধারা ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরতে লেকচার ও সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top