ভুয়ো টিকাকরণ: রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র, মুখ খুললেন মমতা

WhatsApp-Image-2021-06-30-at-3.41.50-PM.jpeg

ভুয়ো টিকাকরণ নিয়ে এই চিঠিই পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক

কলকাতা: ভুয়ো টিকাকরণ নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় সরকার। কাল, বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে।

কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট তলব প্রসঙ্গে সরব হয়েছে তৃণমূল। মুখ খুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে। অভিযুক্তদেরও ধরা হচ্ছে।

নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয় এখনও হজম হয়নি বিজেপির। তাই কেন্দ্রের মাধ্যমে নানা ভাবে হেনস্থা করছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে কোভিডে মৃতদের লাশ ভাসানো হয়েছিল গঙ্গায়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব তা নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন কি না, আমার জানা নেই। পশ্চিমবঙ্গ যখন অক্সিজেন, ওষুধ, ভ্যাকসিন চাইছিল, তখন তিনি কোথায় ছিলেন? রাজ্য সরকার তো সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করছে। পুরসভা ও স্বাস্থ্য দপ্তর টিকাগ্রাহকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে।’
কসবা ও আমহার্স্ট স্ট্রিটে ভুয়ো টিকাকেন্দ্রে যাঁরা হাজির হয়েছিলেন, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় গত শনিবার। তাঁদের টিকার ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে ভুয়ো টিকাকরণের বিষয়টি প্রথম জানা যায় গত বুধবার। সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর মাধ্যমে। পরে কেঁচো খুড়তে কেউটে বের হয়। দেখা যায়, অন্তত ৮০০ জনকে ভুয়ো টিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছেন মিমিও। টিকার বদলে তাঁদের অ্যামিক্যাসিন অ্যান্টিবোয়েটিক দেওয়া হয়।
এই সূত্রে দেবাঞ্জন দেব নামে বছর ২৮-এর এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিজেকে ভুয়ো আইএএস থেকে পুরসভার আধিকারিক, নানা পরিচয়ে মানুষকে প্রতারণা করেছে সে। নিত্যদিন তার নিত্যনতুন কুকীর্তির অভিযোগ সামনে আসছে। কলকাতায় একাধিক ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্র আয়োজন করেছিল সে।
সেই ঘটনায় রিপোর্ট চেয়ে মঙ্গলবার চিঠি পাঠায় কেন্দ্র। মুখ্যসচিবকে লেখা সেই চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের কথা বলা হয়েছে।

লেখা হয়েছে — এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন জানাচ্ছি। ঠিক কী ঘটেছিল, তার যথাযথ তথ্য প্রকাশিত হোক। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গেই দু’দিনের মধ্যে বাস্তব জানিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের কাছে।

গত ২৫ জুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনকে চিঠি লেখেন শুভেন্দু অধিকারী। ভুয়ো টিকাকরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত দাবি করেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা। প্রসঙ্গত, সিবিআই তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যেই জনস্বার্থমামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।
ঘটনাটির তদন্তভার আপাতত কলকাতা পুলিশের হাতে। তারা একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, দেবাঞ্জনের সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে তার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সম্প্রতি। যদিও তৃণমূল এ সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মন্ত্রী তথা কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সঙ্গেও দেবাঞ্জনের ছবি দেখা গিয়েছে। ফিরহাদ বলেন, ‘কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের আসল পরিচয় জানা তো সম্ভব নয়। সেখানে যে কেউ কারও সঙ্গে ছবি তুলতেই পারে। তাতে কী প্রমাণ হয়!’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top