অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট, ফের হোঁচট উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে

hearing-on-Nandigram-case-deferred-in-Calcutta-High-Court.jpg

কলকাতা: ফের স্থগিতাদেশ জারি হলো উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। আজ, বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট এই স্থগিতাদেশ জারি করেছে। যার জেরে ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন হাজার হাজার চাকরি প্রার্থী।
গত ২১ জুন উচ্চ প্রাথমিকে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। তার পরেই নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হন অনেক প্রার্থী।
বুধবার এ সংক্রান্ত মামলা ওঠে বিচারপতি অরিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে মামলায় অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৯ জুলাই। আপাতত ততদিন অপেক্ষা ছাড়া চাকরি প্রার্থীদের উপায় নেই।
উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৩৯টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা। সে জন্যই ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। কিন্তু সেখানেও ওঠে অস্বচ্ছতার অভিযোগ। প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে অস্বচ্ছতার অভিযোগে বাতিল হয়ে যায় গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াই।
তালিকায় অস্বচ্ছতার অভিযোগে এ বারও আদালতের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন চাকরি প্রার্থী। তাঁদের মূল অভিযোগ হলো, ইন্টারভিউয়ের তালিকায় মোট নম্বরের উল্লেখ নেই। এসএসসি-র নিয়ম অনুযায়ী টেট, অ্যাকাডেমিক এবং ট্রেনিং, তিন ক্ষেত্রের নম্বর রাখতে হবে তালিকায়। কিন্তু সেই নিয়মই ভাঙা হয়েছে।
এর ফলে বেশি নম্বর পাওয়া অনেক প্রার্থীর নাম তালিকায় নেই। অথচ কম নম্বর পাওয়া অনেকের নাম তালিকায় উঠে গিয়েছে বলে অভিযোগ। তা ছাড়া, শূন্য পদের নিরিখে নির্দিষ্ট অনুপাতেও নামের তালিকা প্রকাশ হয়নি বলে কারও কারও দাবি।
এ সব নিয়ে ইতিমধ্যেই সল্টলেকে এসএসসি-র সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন একদল চাকরি প্রার্থী। কিন্তু কমিশনের তরফে কোনও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। সে কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। বর্তমান তালিকা বাতিল করতে হবে। এবং মোট নম্বর উল্লেখ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে তাঁদের দাবি।
মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে না। বেশি নম্বর পেয়েও অনেকে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাচ্ছেন না। আবার কম নম্বর পেয়ে নাম উঠে যাচ্ছে তালিকায়।’
সূত্রের খবর, আজ, বুধবার বিকেলে এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে এসএসসি। সেখানে এ সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের কথা জানান। পুজোর মধ্যে দুই স্তর মিলিয়ে সাড়ে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। বাকি সাড়ে সাত হাজার হবে আগামী মার্চের মধ্যে। অর্থাৎ দু’দফায় ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার পরই গত ২১ জুন উচ্চ প্রাথমিকে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, নিয়োগ হবে কেবল মেধার ভিত্তিতে। কিন্তু নানা অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর সেই দাবিই এখন প্রশ্নের মুখে। আপাতত সব নজর আদালতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top