ফের উচ্চ প্রাথমিকের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট, বাড়ল স্থগিতাদেশের মেয়াদ

WhatsApp-Image-2021-07-02-at-5.32.20-PM.jpeg

কলকাতা: ফের উচ্চ প্রাথমিকে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি)। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট এই নির্দেশ দেয়।
তার আগে কমিশনকে ‘অপদার্থ’ বলে ভর্ৎসনা করে আদালত। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার।
গত ২১ জুন ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। কিন্তু সেই তালিকায় নানা অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। তালিকায় প্রাপ্ত নম্বরের কোনও উল্লেখ নেই। তা ছাড়া কম পাওয়া অনেক পরীক্ষার্থীর নাম তালিকায় রয়েছে। অথচ বেশি নম্বর পাওয়ারা বাদ গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তা ছাড়া, শূন্য পদের অনুপাতে প্রার্থীদের নামের সংখ্যা নিয়েও অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে সল্টলেকে এসএসসি অফিসের সামনেও বিক্ষোভে সামিল হন অনেক চাকরি প্রার্থী। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে অভিযোগও দায়ের করা হয়। যা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে ওঠে।
বিচারপতি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন। যার জেরে ১৪ হাজার ৩৩৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জট তৈরি হয়।
এ দিন এই মামলাটিই ওঠে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। তিনি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেন অনিয়ম হয়েছে? এ প্রশ্নে কমিশনের চেয়ারম্যানকে সশরীর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।
বলেন — এই কমিশন কোন আধিকারিকরা চালাচ্ছেন? অবিলম্বে কমিশনকে খারিজ করা উচিত।
বিকেলের দিকে উপস্থিত হন চেয়ারম্যান। আদালত নির্দেশ দেয়, ফের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রাপ্ত নম্বর-সহ ইন্টারভিউয়ের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে।
মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া হচ্ছে না। বেশি নম্বর পেয়েও অনেকে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাচ্ছেন না।’
দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ থমকে। চাকরি প্রার্থীরা বারবার নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। প্রথম যে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশিত হয়, গত ডিসেম্বরে তা-ও বাতিল করে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য তা বাতিল করে নতুন করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সে বারও অস্বচ্ছতার অভিযোগেই বাতিল হয়েছিল তালিকা। এ বছর মে মাসে নতুন নাম প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু মাঝে করোনা ও ভোট পড়ে যায়। তাই তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হয়।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুজোর মধ্যে সাড়ে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। আরাও সাড়ে সাত হাজার নিয়োগ হবে আগামী মার্চের ভিতরে। মেধাই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top