কারখানার বিধ্বংসী আগুনে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে মৃত অন্তত ৫০ শ্রমিক

WhatsApp-Image-2021-07-09-at-3.22.02-PM.jpeg

Onlooker desk: জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০ জন মারা গেলেন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুলতা কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড লিমিটেডের ছ’তলা কারখানায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আহত পঞ্চাশেরও বেশি শ্রমিক। জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক মহম্মদ আব্দুল্লাহ আল আরেফিন সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আগুন লাগে ওই কারখানায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট কাজ শুরু করে। শুক্রবার ভোরে তা প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছিল। কিন্তু ভিতরের আগুন পুরোপুরি নেভেনি। খানিকক্ষণ বাদে ফের তা বেড়ে যায়।
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রথমে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু তখনও বহু শ্রমিক ভিতরে আটকে ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ ক’জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কারখানার আগুন থেকে বাঁচতে ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেন অনেকে। অনেকে ভেতরে আটকে পড়েন।
১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকে আগুন। ফাটল ধরে যায় ভবনটিতে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও স্বজনের খোঁজ না পেয়ে এক সময়ে ধৈর্য হারান শ্রমিকদের আত্মীয়রা। কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালান একদল লোক। আটটি মোটরসাইকেল ও খান কুড়ি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে আজ, শুক্রবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।
শুক্রবার আবদুল্লাহ আরেফিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, কারখানার ভিতরে প্রচুর প্লাস্টিক ও রাসায়নিক পদার্থ মজুত। সে কারণে একবার আয়ত্তে এনে ফেললেও ফের তা জ্বলে উঠছে। একতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত আগুন নেভানো গেলেও পঞ্চম ও ষষ্ঠতলার আগুন চিন্তায় রেখেছে দমকলকর্মীদের।
পাশাপাশি প্রচুর দাহ্য পদার্থ পুড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড কালো ধোঁয়া তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে শিখা। দু’য়ের জেরে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে আরেফিন জানান।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রূপগঞ্জের ভুলতায় ওই জুস কারখানার একতলায় আগুন লাগে। প্রাণ বাঁচাতে ভবনটি থেকে লাফিয়ে পড়েন শ্রমিক স্বপ্না রানি (৪৪) ও মিনা আক্তার (৩৪)। ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁরা।
এরপর মোরসালিন (২৮) নামে এক শ্রমিক ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া যাওয়া হয়। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই তিন জনের মৃত্যুর খবরই প্রথমে জানা যায়। কিন্তু বহু সময় কেটে গেলেও স্বজনের খোঁজ না মেলায় নিখোঁজদের বাড়ির লোক এখন পরিণাম সম্পর্কে এক প্রকার নিশ্চিত। অন্তত দেহ শনাক্ত করার সুযোগ চাইছেন তাঁরা। নিদেনপক্ষে শেষ চিহ্নটুকু যদি পাওয়া যায়, সেই আশায় বহু মানুষ ভিড় করেছেন কারখানার সামনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top