কোপায় জিতে স্ত্রীয়ের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে মেসি, হেরে কেঁদে ফেললেন নেমার

WhatsApp-Image-2021-07-11-at-11.53.21-AM.jpeg

Onlooker desk: ২৮ বছরের প্রতীক্ষা শেষে বড় কোনও ট্রফি জিতল আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০য় হারিয়ে জয়ী হয়েছে লিওনেল মেসির দল। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার গোলে জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি উঠল মেসির হাতে।
যদিও তিনি নিজে অত্যন্ত সহজ একটি গোল মিস করেন। কিন্তু তাতে কী! মেসি তো মেসিই। টুর্নামেন্ট জয়ের পরে মেসিকে শূন্যে ছুড়ে উল্লাস করতে দেখা যায় সতীর্থদের।
সেই সঙ্গে দেশের মাটিতে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডও ভাঙল ব্রাজিলের। আড়াই হাজারেরও বেশি দিন ধরে দেশে আয়োজিত কোনও টুর্নামেন্ট হারেনি ব্রাজিল। কিন্তু ভারতীয় সময়ে রবিবার ভোরের ম্যাচে পরাজয় ঘটে তাদের। মাঠের মধ্যেই ভেঙে পড়েন নেমার। দেখা যায়, মেসি তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
জয়ের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘খুব বড় জয়। ভক্তরা আমাদের দলকে নিঃশর্ত ভাবে সমর্থন করেন। আমার মনে হয়, এই দলের হার-না-মানা মনোভাবের সঙ্গে তাঁরা একাত্ম হতে পারেন।’
খেলা শুরুর ২২ মিনিটের মাথায় গোলটি করেন ডি মারিয়া। বছর ৩৩-এর এই উইঙ্গার রডরিগো ডি পলের থ্রু বল নিয়ে এগিয়ে অনেকখানি উঁচু দিয়ে গোলটি করেন। ব্রাজিলের গোলকিপার এডারসন গোল বাঁচানোর বিশেষ সুযোগ পাননি।
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হওয়ার পর ডি মারিয়া বলেন, ‘কতবার আমাদের খামতি থেকেছে। এই দিনটার জন্য কত স্বপ্ন দেখেছি। কত লড়াই করেছি। অনেকেই বলেছেন, আমরা পারব না। অনেক সমালোচনা হয়েছে আমাদের নিয়ে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। যতক্ষণ না দরজা খোলা গিয়েছে, আমরা কড়া নেড়ে গিয়েছি।’
সেমি ফাইনালে পেরুকে হারানোর পর ফাইনালে ব্রাজিল দলে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি পাঁচটি বদল ঘটিয়েছিলেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও অন্যতম অবশ্যই ডি মারিয়ার প্রবেশ।
কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা ওটার পর মারাকানার এই স্টেডিয়ামে ১০ শতাংশ দর্শককে অনুমতি দেওয়া হয়। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান ৭,৮০০ জন।
খেলার ১৩ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগটি আসে। মারকিনহোর লং বল হেডে নেমারের কাছে পাঠান রিচারলিসন। কিন্তু অনেক ডিফেন্ডার ঘিরে থাকায় সুবিধা করতে পারেননি নেমার।
এরই মধ্যে নজরে পড়ে, নেমার খেলতে নেমেছেন ছেঁড়া শর্টস পরে। লুকাস পাকেতার মোজায় ফুটো। তা নিয়েও বেশ খানিক আলোচনা শুরু হয়। তবে সব ছাপিয়ে যায় আর্জেন্টিনার এক ইঞ্চিও জমি না-ছাড়ার মনোভাব। জয়ের ব্যাপারে একরোখা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাবের পাশাপাশি তাদের খেলার মান নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ নেই।
সে জায়গায় কোনও দাগই কাটতে পারেনি ব্রাজিল। এমনকী ফ্রি কিকেও গোল করতে ব্যর্থ হন নেমার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিল কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তারপরে কিছু বদলও ঘটান কোচ তিতে। রিচারলিসন গোলপোস্টে বল ঢোকালেও সেটা ছিল অফসাইড। মাঝ পর্বের গোটা খেলাই একাধিক ফাউল ও নানা নাটকীয় দৃশ্যে ভরা।
একেবারে শেষ দিকে ব্রাজিল কিছুটা ফোঁস করে। কিন্তু আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডের সামনে পর্যদুস্ত হতে হয় তাদের। গ্যাব্রিয়েল বারবোসার ছোড়া বল একই রকম ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন মার্টিনেজ। তাঁর মোজা ততক্ষণে রক্তে লাল।
অন্যদিকে, কোচ স্কালোনি জানান, জখম অবস্থাতেই মাঠে লড়াইয়ে নেমেছিলেন মেসি। আঘাত ঠিক কোথায়, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন। খেলায় জয়ের শেষে মেসিকে দেখা যায়, ভিডিয়ো কলে স্ত্রীয়ের সঙ্গে কথা বলছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top