‘মহাকাশে ওড়ার অর্থ ক্রেতা-কর্মীরাই দিয়েছেন’, মন্তব্যে সমালোচিত অ্যামাজন-মালিক জেফ বেজোস

WhatsApp-Image-2021-07-21-at-2.05.31-PM-1.jpeg

Onlooker desk: তিনি গিয়েছিলেন মহাকাশে বেড়াতে। সে জন্য ‘টাকা দিয়েছেন’ তাঁর সংস্থার কর্মী ও ক্রেতারা। নিজেই সে কথা উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান। আর তার জেরেই শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।
পৃথিবীর ধনীতম ব্যক্তি জেফ বেজোস (Jeff Bezos) মঙ্গলবার তাঁরই সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ (Blue Origin)-এর তৈরি রকেটে চেপে মহাকাশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ১১ মিনিটের সফর শেষে সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দেন। নীল স্পেস স্যুট এবং কাউবয় হ্যাট পরিহিত বেজোস বলেন, ‘আমি অ্যামাজনের প্রত্যেক কর্মী ও ক্রেতাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ আপনারাই এর জন্য অর্থের সংস্থান করেছেন। তাই আপনাদের প্রত্যেককে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।’
বেজোস হয়তো ইতিবাচক ভাবেই কথাটা বলেছেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। সমালোচকরা জানাচ্ছেন, অ্যামাজনের (Amazon) কর্মীরা বারবারই বিপজ্জনক কাজের পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন। কাজের দীর্ঘ সময় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। খাওয়া, এমনকী শৌচালয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত তাঁদের মেলে না বলে অভিযোগ করেছেন এঁরা। অথচ সেই সংস্থার মালিক বেজোস বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি।
আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও করটেজ নামে এক প্রতিনিধি টুইটারে লেখেন — হ্যাঁ, অ্যামাজনের কর্মীরা তো এর জন্য অর্থ ব্যয় করেইছেন। স্বল্প মজুরি, ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়া, পাগলের মতো এবং অমানবিক কর্মক্ষেত্র এমনকী, এই অতিমারীতেও স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ ছাড়া ডেলিভারি ড্রাইভারদের কাজ। আর মার্কেট পাওয়ার ব্যবহার করে অ্যামাজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি করেছে, তার মাধ্যমে মূল্য চুকিয়েছেন ক্রেতারা।
মার্কিন সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ফের অভিযোগ করেছেন, বেজোস কর দেন না। তাঁর থেকে ওয়েলথ ট্যাক্স নেওয়া হোক।
টুইটারে সরব হয়েছেন কানাডার নতুন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা জগমিত সিং। তিনি লেখেন — জেফ বেজোসের উড়ানের সময় ১১ মিনিট। আর এই অতিমারীতে প্রতি ১১ মিনিটে তিনি ১.৬ মিলিয়ন ডলার করে কামিয়েছেন।
তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। অনেকেই তাঁর শ্রবণশক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ এতকিছুর পরেও তিনি নীরব।
জেফ বেজোস ও তাঁর ভাই মার্কের সঙ্গে স্পেস ফ্লাইটে ছিলেন প্রবীণতম ও কনিষ্ঠতম মহাকাশচারী। মহিলা মহাকাশচারীদের পুরোধা, বছর ৮২-র ওয়্যালি ফাঙ্ক এবং সম্প্রতি হাই স্কুল থেকে পাশ করে বেরোনো, ১৮-র অলিভার ডেমেন ছিলেন বেজোস ভাইদের সঙ্গী। জেফের সংস্থা ব্লু অরিজিন এ বছর আরও দু’টি নতুন শেফার্ড প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট তৈরি করবে।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top