ইন্টারনেটে মর্ফড ছবি ও মোবাইল নম্বর, ফোনে হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী থেকে পুলিশ অফিসারের মেয়ে

WhatsApp-Image-2021-07-11-at-1.49.04-PM.jpeg

Onlooker desk: সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্ষণের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ জানালেন এক বাঙালি অভিনেত্রী। কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল ঘটনার তদন্তে নেমেছে। এক সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানান, ২০০০-এর আইটি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাঁর ছবি মর্ফ করা হয়েছে। সে ভাবে তাঁর মুখ ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সংবাদমাধ্যমে তাঁর অভিযোগ, ‘আমাকে ধর্ষণ করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রথমে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু হেনস্থা বাড়তেই থাকে। আমার প্রাণের ভয় করছে।’
তাঁর আরও অভিযোগ, কোনও প্রোফাইল ব্লক করা হলে দ্বিতীয় একটি প্রোফাইল খুলে ফের মেসেজ ও হুমকি দেওয়া শুরু হচ্ছে। তৈরি করা ওই সব ছবি তাঁর মা ও বন্ধুদেরও পাঠানো হয়েছে বলে মহিলার দাবি।
অন্য একটি ঘটনায় এক পুলিশ অফিসারের মেয়ের মর্ফড ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ হুগলির এক তৃণমূল নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। মেয়েটির ফোন নম্বরও আপলোড করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী একে অপরকে চিনতেন।
মেয়েটির পরিবার জুন মাসে বিধাননগর পুলিশে অভিযোগ জানায়। কিন্তু আইটি আইনে তদন্ত শুরু হয়েছে শনিবার। মেয়েটির বাবা বলেন, ‘একজন পুলিশ অফিসার হয়ে আমি যদি বিচার না-পাই, তা হলে সাধারণ মানুষের কী হবে!’ তাঁর মেয়ের কথায়, ‘শুধু অন্যান্য রাজ্য নয়, ভিন দেশ থেকেও আমার কাছে ফোন আসছিল। পর্ন সাইটে আমার ছবি ও নম্বর আপলোড করে দেওয়া হয়।’
দুই ঘটনার জেরে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে নতুন গোলমাল দেখা দিয়েছে।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই সুযোগে তৃণমূলকে বিঁধেছেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, ‘পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সরকার বেশ ক’জন দক্ষ অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁরা হয়তো নির্বাচনের সময় শাসক দলের নির্দেশ মতো কাজ করেননি। তারই পরিণাম ভুগতে হয়েছে। পুলিশ আর কী করবে? দলের নেতারাই তো পুলিশ বাহিনীকে চালনা করছেন।’
স্বাভাবিক ভাবেই এই সব অভিযোগ মানতে চায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নেতা তথা মন্ত্রী সুজিত বসু সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সাইবার অপরাধ তো কেবল পশ্চিমবঙ্গে সীমিত নয়। গোটা বিশ্বে এর জাল ছড়ানো। পশ্চিমবঙ্গ পুলিস এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করে। সেখানে দলের কোনও হস্তক্ষেপ থাকে না। এ সব অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top