বাবা-মা-বোন-দিদাকে খুন, কালিয়াচকে ধৃত তরুণ, ঘনাচ্ছে রহস্য

Kaliachak.jpg

কালিয়াচক: বাবা, মা, বোন ও দিদাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো এক তরুণকে। সে ওই পরিবারের ছোট ছেলে। ঘটনাটি মালদার কালিয়াচকের আট মাইল এলাকার। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন চার জন। তখনই তাঁদের খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তবে এতদিন এ নিয়ে কেউ খোঁজখবর করলেন না কেন, সে প্রশ্ন উঠছে।
তবে একটি সূত্রের দাবি, জরুরি কাজে তাঁরা মহারাষ্ট্র যাবেন বলে জানা গিয়েছিল। বছরদুয়েক সেখানেই থাকার কথা ছিল। প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন হয়তো তেমনই কোথাও গিয়েছেন এঁরা। কিন্তু বাড়িরই ছেলের হাতে যে খুন হয়েছেন, সে ধারণা ছিল না কারও। ঘটনাটি সামনে আসতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আসিফ ওই চারজনকে খুন করে বলে অভিযোগ। চারজনের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিহতরা হলেন, জাওয়াদ আলি, তাঁর মা আলেকজান খাতুন, স্ত্রী ইরা বিবি এবং মেয়ে আরিফা খাতুন। আসিফের দাদা আরিফই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কিন্তু কীসের জন্য এই খুন, সেটা পরিষ্কার নয়।
কালিয়াচকের ওই গৃহকর্তার ইট-বালি-পাথরের ব্যবসা ছিল। রয়েছে ডাম্পারও। অবস্থা যথেষ্ট ভালো তাঁদের। এলাকার এক স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত আসিফ। তবে পাড়ায় কারও সঙ্গে তাঁদের মেলামেশা ছিল না। আসিফও কারও সঙ্গে মিশত না। কারও সঙ্গে সে ভাবে কথাবার্তা বলত না।
তার ঘর থেকে প্রচুর মোবাইলের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বেশ ক’টি কফিন। এখানেই রহস্য বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কী হয়েছিল? একটি সূত্রের খবর, ছেলে গবেষণা করছে ভেবে কফিনগুলিতে নিজেরাই ঢুকে পড়েন বাড়ির লোক। তারপরে আসিফ তাঁদের মুখে সেলোটেপ আটকে দেয়। গোটা ঘটনার সাক্ষী তার দাদা আরিফ।
অভিযোগ, এর পরে তাঁকেও খুনের হুমকি দেয় আসিফ। মারধর করে। কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু এমন একটা কাণ্ড চোখের সামনে দেখেও তিনি চুপ ছিলেন কেন? কেনই বা এতদিন পুলিশকে কিছু জানাননি। এমন নানা প্রশ্ন উঠছে।
শনিবার সকালে বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে চারজনের পচাগলা দেহ মেলে। ট্যাঙ্কটি আন্ডারগ্রাউন্ড। এ দিন প্রথমে আসিফ ও আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। তারপরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। তাদের সাহায্য উদ্ধার হয় দেহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top