‘বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক’, নগ্ন করে গ্রামে ঘোরানো হলো আদিবাসী মহিলাকে

IMG-20210615-WA0002.jpg

আলিপুরদুয়ার: তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। সেই কারণে এক আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে গ্রামে ঘোরানো হলো। গোটা পর্বের ভিডিয়োও করা হয়। ঘটনাটি গত বুধবার আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম এলাকার। কিন্তু রবিবার ওই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পরে বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ, মাসছয়েক আগে নিজের বাড়ি ছাড়েন ওই মহিলা। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েই তিনি সেই দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য নিজের পরিবারকে ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। গত সপ্তাহে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু এমন এক কাণ্ড ঘটিয়ে ফের বাড়ি ফিরে এলেই কি মেনে নেওয়া যায়? ‘উচিত শাস্তি’ দিতে হবে না! গত বুধবার রাতে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা মহিলার বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে তাঁকে। খুলে দেওয়া হয় জামাকাপড়। যত রকম ভাবে অসম্মান করা যায়, তেমন সব কথাবার্তা বলে তাঁকে নগ্ন অবস্থায় গ্রামে ঘোরানো হয়। কিন্তু এতে কি আর আশ মেটে! ভিডিয়োবন্দি করা হয় লাঞ্ছনা-পর্ব।
এই ঘটনার পর মহিলাকে আর দেখা যায়নি। এলাকার কেউ পুলিশেও খবর দেয়নি। কিন্তু রবিবার ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। শুরু হয় মহিলার খোঁজ। জানা যায়, তিনি অসমে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছেন, সেখানেই রয়েছেন। স্বামীই পুলিশকে নিয়ে সেখানে যান এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন।
ঘটনার জেরে বিধ্বস্ত মহিলাকে প্রথমে কাউন্সেলিং করা হয়। তার পরে স্বামীর উপস্থিতিতেই পুলিশে এফআইআর দায়ের করেন নিগৃহীতা। নিগ্রহকারীদের প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করেন। রবি ও সোমবার মিলিয়ে ছ’জনকে ধরা গেলেও তাদের মধ্যে পাঁচজন এখনও পলাতক। ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারার পাশাপাশি ৩০৭ (খুনের চেষ্টা)-ও রুজু করা হয়েছে অভিযুক্তদের নামে। ধৃতদের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিচারে কোনও সালিশি সভা বা খাপ পঞ্চায়েতের ভূমিকা নেই। বরং ওই আদিবাসী মহিলার নিজের সম্প্রদায়েরই একদল তরুণ মিলে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। বেশ কয়েকটি বিরোধী দল ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে। কেনই বা তারা এ নিয়ে এখনও ‘নীরব ও নিষ্ক্রিয়’ সে প্রশ্নও তুলেছে। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ পাল্টা টুইটে লিখেছে — কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ঘটনাটিকে ভুল ভাবে উপস্থাপিত করছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’ স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধীরেশ রায় ঘটনায় নিন্দা করেছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাজার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top