প্রবল বৃষ্টি, মাইথন-পাঞ্চেতের সঙ্গে জল ছাড়া শুরু দুর্গাপুর ব্যারাজেও

water-release-from-durgapur-barrage.jpg

জল ছাড়া হচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে

আসানসোল ও দুর্গাপুর: নিম্নচাপের জেরে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ভরে উঠেছিল নদী-নালাগুলি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে দামোদরের দুর্গাপুর ব্যারাজে জল ছাড়া শুরু হয়। জল ছাড়া হয় ডিভিসি-র মাইথন ও পাঞ্চেত ড্যাম থেকেও। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রবল বর্ষণে শুক্রবার সকাল থেকেই জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে। এদিন মাইথন থেকে ৮৫০০ কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে ১৪৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়। পাশাপাশি ডিভিসির তরফে গ্রিন সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। আবার ডিভিসি জল ছাড়ায় তার প্রভাব দেখা যায় দুর্গাপুর ব্যারাজেও। এদিন রাত ৮টা পর্যন্ত দুর্গাপুর থেকে ৬৭,২৭৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর ফলে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভানভাসী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমনিতে দামোদরের উচ্চ উপত্যকার বৃষ্টির জল এসে জমা হয় মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধারে। বছরের বিভিন্ন সময় চাষ বা শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে জল দেওয়া হয়। তবে এই জলাধারগুলিরও নির্দিষ্ট জল ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। মাইথনের জল ধারণের ক্ষমতা ৩৪৪ মিলিয়ন কিউবিক মিটার ও পাঞ্চেতের ৫৮০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার। এমনিতে এই দুই জলাধারের জলস্তর অনেকটাই নীচে থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার প্রায় ১ লক্ষ কিউসেক জল এসে জমা হয় বলে ডিভিসি সূত্রে খবর। এর ফলে কিছুটা পরিমাণ জল ছাড়তে হয় দুই জলাধার থেকে।
এদিকে মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে ছাড়া জল দুর্গাপুর ব্যারেজে কিছুটা হলেও চাপ বাড়িয়েছে। তার সঙ্গে গত ক’দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে আসানসোল, দুর্গাপুর এবং বাঁকুড়া জেলার কিছুটা অংশের জল এসে পড়েছে দামোদরে। এর মধ্যে গাড়ুই নদী ছাপিয়ে এমনিতেই আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। সেই সমস্ত জল আসায় দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও জল ছাড়ার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
দুর্গাপুর ব্যারাজটি রাজ্য সেচ দপ্তরের অধীনে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরে শিল্প এবং চাষের জন্য ব্যারাজে জল ধরে রাখা হয়। কিন্তু বর্ষার সময় অতিরিক্ত জল মজুত করার মতো ব্যবস্থা দুর্গাপুরে নেই। ফলে বর্ষার সময় জলের চাপ বাড়লে সেই অনুযায়ী ব্যারাজ থেকে জল ছাড়া হয়। তবে এখান থেকে ৬০ হাজার কিউসেকের বেশি জল ছাড়া হলেই তা বিপদ সঙ্কেত হিসেবে ধরা হয়। এবার মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে সে ভাবে জল ছাড়া না হলেও ওই দুই জলাধার থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত এই বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় ব্যারাজে অতিরিক্ত জল জমা হয়েছে।
তবে দুর্গাপুর থেকে ছাড়া জল পূর্ব বর্ধমান হয়ে হুগলি, হাওড়া পৌঁছতে শনিবার বিকেল হয়ে যাবে। এর মধ্যে এদিন দুপুর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বৃষ্টি আর সে ভাবে না বাড়লে তেমন কোনও চিন্তার কারণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top