টায়ার কোম্পানির ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, পুলিশের জালে ২

WhatsApp-Image-2021-05-23-at-5.04.15-PM.jpeg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: নামী টায়ার কোম্পানির ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীর ১৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হল আরও এক প্রতারক। ধৃতের নাম মহম্মদ রাকিবুল মণ্ডল। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগর থানার কামারপুর এলাকায়। বর্ধমান সাইবার থানার পুলিশ শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
একই প্রতারণার ঘটনায় দিন কয়েক আগেই বর্ধমান সাইবার থানার পুলিশ শুভেন্দু কর্মকার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। শনিবার ধৃত দু’জনকেই বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ রাকিবুল মণ্ডলকে পাঁচ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম রাকিবুলের তিন দিন পুলিশি হেফাজত ও শুভেন্দুকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় ব্যবসায়ী প্রদীপ পাল মঙ্গলকোট থানার পুরাতন হাট এলাকার বাসিন্দা। একটি নামকরা টায়ার কোম্পানির ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য তিনি নানা ভাবে চেষ্টা করছিলেন। সেটা কোনও ভাবে জানতে পারেন প্রতারকরা। এর পরেই টায়ার কোম্পানির রিলেশনশিপ ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি গত বছর জুলাই মাসে প্রদীপ পাল নামে ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। প্রদীপ টায়ারের ডিলারশিপ নিতে আগ্রহী কি না, তা জানতে চান ওই ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করার পর এমন প্রস্তাব পেয়ে স্বভাবত খুশিই হন প্রদীপ। তিনি সম্মতি জানালে ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য ই-মেল মারফত তাঁকে একটি ফর্ম পাঠানো হয়। ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে বলার পাশাপাশি প্রদীপকে ১৫ হাজার ৮০০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। তিনি সেই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগ, এর পর থেকে নানা অছিলায় প্রদীপের কাছ থেকে বেশ কয়েক দফায় টাকা চাওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ১৩ লক্ষ ২০ হাজার ৮০০ টাকা প্রদীপ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারকের দেওয়া অ্যাকাউন্টে জমা করেন। কিন্তু টায়ার কোম্পানির ডিলারশিপ তিনি পাননি। এদিকে বারবার বলা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন পরে টাকা ফেরত পাননি। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি বর্ধমান সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার করে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও ব্যাঙ্কের দু’টি পাশবই বাজেয়াপ্ত করে। শুভেন্দুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ঘটনায় রাকিবুলের যোগসাজোসের কথা জানতে পারে। তারপর অশোকনগরে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top