এলাকা দখল নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত গলসি

Galsi-clash.jpg

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আহতদের

বর্ধমান: এলাকার দখলদারি নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জখম হলেন এক মহিলা-সহ দু’পক্ষের তিন জন। বুধবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির (Galsi) করকডাল এলাকায়। সংঘর্ষ চলাকালীন লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে শেখ বদরুদ্দজা নামে এক তৃণমূল কর্মীর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়াও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে গলসি (Galsi) থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জখন তৃণমূল সমর্থক শেখ বদরুদ্দজাকে উদ্ধার করে রাতেই পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। উত্তেজনা থাকায় বৃহস্পতিবারও এলাকায় জারি থাকে পুলিশি টহল।
আহত তৃণমূল সমর্থক শেখ বদরুদ্দোজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গলসির (Galsi) বোলপুর মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে তিন-চার জনের সঙ্গে চা খাচ্ছিলেন তিনি। ওই সময় পারাজ অঞ্চলের তৃণমূল কর্মী শেখ বাপি-সহ বেশ কিছু তৃণমূল সমর্থক অতর্কিতে তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাঁকে মাটিতে ফেলে লাঠি, রড দিয়ে পেটানো হয়। এর ফলে তাঁর দু’টি পা একটি হাত ভেঙে গিয়েছে। বদরুদ্দোজার আরও অভিযোগ, শেখ বাপি ও তার লোকজনের মারে আরও এক তৃণমূল কর্মী জখম হয়েছেন। এলাকা দখলে রাখতেই শেখ বাপি-সহ তাঁর লোকজন এই হামলা মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সেখ বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন।
যদিও শেখ বাপির দাবি, গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য বদরুদ্দোজার লোকজন মঙ্গলবার বাইরের লোকজন গ্রামে এনে বনভোজন করেছিল। তখন থেকেই অশান্তি শুরু হয়। পুলিশকেও তাঁরা ঘটনার কথা জানান। পুলিশও গ্রামে আসে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর বদরুদ্দোজার লোকেরা চায়ের দোকানে বসে তাঁর লোকজনকে উদ্দেশ্য করে কটু কথা বলতে থাকেন। তা নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের বচসা বাধে। পরে শুরু হয়ে যায় মারামারি। শেখ বাপি অভিযোগে আরও বলেন, তাঁদের গোষ্ঠীর কাদের মোল্লার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে অপর গোষ্ঠী। তাছাড়াও হাসিনা বেগম নামে তাঁদের এক মহিলাকেও ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি দু’টি মোটরবাইক, একটি চারচাকা গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
বিজেপি নেতা শ্যামল রায়ের অভিযোগ , অবৈধ বালিখাদানের দখলদারি নিয়েই গলসিতে তৃণমূলের গোষ্ঠী লড়াই লেগেই রয়েছে। তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য এই ঘটনাকে গোষ্ঠীদ্বন্ধ হিসাবে মানতে নারাজ। তৃণমূলে কোনও গোষ্ঠী নেই বলে জানান পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র প্রসেনজিৎ দাস। তিনি বলেন, ‘একুশের বিধানসভা ভোটের পর সবাই তৃণমূল হয়ে গেছে। কি ঘটনা ঘটেছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top