শহিদ স্মরণের দিনেই হাড়োয়ায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মৃত ২

Two-die-in-Haroa-from-TMC-infighting.jpg

সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা চলছে

হাড়োয়া: ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ স্মরণের দিনেই দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া। মূলত শহিদ দিবসের পতাকা তোলা এবং ভার্চুয়াল মঞ্চে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনাকে কেন্দ্র করেই ঝামেলা শুরু। মারধর, ভাঙচুর, বোমাবাজির পাশাপাশি গুলিও চলেছে বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের সংঘর্ষে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বুধবার গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনানোর জন্য দলের তরফে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই ভাবে হাড়োয়ার ট্যাংরামারি গ্রামেও সেই আয়োজন করেন তৃণমূল নেতারা। একটি সূত্রে খবর, তৃণমূলের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে দল বদল করে ফের তৃণমূলে ফিরে আসা লোকজনের গন্ডগোল বাধে পতাকা তোলা নিয়ে। তা থেকেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ওই দুই গোষ্ঠী। আর একটি সূত্রে খবর, জায়ান্ট স্ক্রিনে দলনেত্রীর ভাষণ চলাকালীন দু’পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। এর জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে লক্ষ্মীবালা মণ্ডল (৬২) এবং সন্ন্যাসী সরদার (৩৮) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে মারা যান লক্ষ্মীবালা। আর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় সন্ন্যাসীর। আহত সবাইকে নিয়ে আসা হয় হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচ জনকে পাঠানো হয়েছে আরজি কর হাসপাতালে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, গ্রামে একটি জায়ান্ট স্ক্রিনে তৃণমূলের ভার্চুয়াল সভা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনাকে কেন্দ্র করে হঠাৎই দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাঙচুরের পাশাপাশি ব্যাপক বোমাবাজি শুরু হয়।
যদিও কিছু গ্রামবাসীর বক্তব্য, বিধানসভা ভোটের আগে এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পর তাঁরা এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার হাত ধরে তৃণমূলে ফেরেন। এর পর থেকে আদি এবং দলবদলুদের মধ্যে ঝামেলা চলছিলই। এদিন শহিদ স্মরণে পতাকা তোলা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। এর পর সভা শেষে বাড়ি ফেরার সময় এক গোষ্ঠীর লোকজনের উপর অপর গোষ্ঠীর লোকজন আচমকা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তার পরই শুরু হয় বোমা-গুলির লড়াই।
এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top