বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক নিজেরাই পরিষ্কার করার সময় দম আটকে মৃত্যু দুই ভাইয়ের

Polish_20210611_235601688.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: সেপটিক ট্যাঙ্ক ভরে গিয়েছিল। তাই সেটি পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন দুই ভাই। চেম্বারে পড়ে বিষাক্ত গ্যাসে দম আটকে মৃত্যু হলো দু’জনেরই। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে ট্যাঙ্কের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন কাকাও।
শুক্রবার দুপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার ধর্মতলা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম শুকতারা শেখ (২১) ও সামাদ শেখ (২৫)। ধর্মতলা গ্রামেই তাঁদের বাড়ি। মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে দম আটকেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে দুই তরতাজা তরুণের এ ভাবে মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন সামাদ-শুকতারার বাড়ির লোক।
পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বগপুর পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম ধর্মতলা। গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার শেখের বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের চেম্বারে সমস্যা দেখা দেয়। সে কারণে তাঁর দুই ছেলে শুকতারা ও সামাদ এ দিন বেলা ১১টা ট্যাঙ্কের চেম্বারের ঢাকনা খুলে পাইপ লাইন লাগানোর কাজ শুরু করেন। কাজ করার সময়ে আচমকাই সেপটিক ট্যাঙ্কের গভীর চেম্বারের মধ্যে পড়ে যান সামাদ। দাদাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভিতরে পড়ে যান ভাই শুকতারাও। তা দেখে দুই ভাইপোকে বাঁচাতে যান কাকা আমিরচাঁদ শেখ। তিনিও চেম্বারের বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরিবারের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে চলে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা তিনজনকে সেপটিক ট্যাঙ্কের চেম্বার থেকে উপরে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। অনেক চেষ্টায় আমিরচাঁদকে বাঁচাতে পারলেও দুই ভাইকে রক্ষা করতে পারেননি। ঘটনার খবর পেয়ে নাদনঘাট থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা পৌঁছন। তাঁরা মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠান।
আমিরচাঁদ বলেন, ‘দু’টি সেপটিক ট্যাঙ্কের চেম্বারের ঢাকনা খোলার পর দেখা যায় একটি চেম্বারে জল নেই। সেই কারণে কিছুটা ফুটো করে দেওয়া হয়। তাতে জল ভরে যায় চেম্বারে। তারই মধ্যে পাইপ লাগাতে গিয়ে বড় ভাইপো চেম্বারে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে পড়ে যায় ছোট ভাইপো।’ ভাইপোদের তিনি চেম্বার থেকে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনিও চেম্বারে পড়ে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চোখে অন্ধকার দেখতে থাকেন। পাড়ার লোকজনের চেষ্টায় কোনওমতে প্রাণে বাঁচেন তিনি।
সামাদ রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি পাইপলাইনের কাজও করতেন। ভাই শুকতারা পড়াশোনা করছিলেন। অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না মোক্তার। সামাদই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। দুই ছেলের মৃত্যুতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের লোকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top