বিশ্ব আদিবাসী দিবসে দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র পেলেন জামালপুরের আদিবাসীরা

caste-certificate.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
আজ, সোমবার বিশ্ব আদিবাসী (world tribal day)। এমন একটা দিনেই বাড়িতে বসে জাতিগত শংসাপত্র (caste certificate) পেলেন আবেদনকারী আদিবাসীরা। সৌজন্যে পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর (Jamalpur) ব্লক প্রশাসন।
দিন কয়েক আগেই ‘দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র’ প্রকল্প চালু করার কথা জানিয়েছিলেন জামালপুর (Jamalpur) ব্লক প্রশাসনিক কর্তারা। তাতে বেশ কিছু আবেদনও জমা পড়ে। প্রকল্পের সূচনার জন্য বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে (world tribal day) বেছে নেন প্রশাসনিক কর্তারা। সেই মতো এদিন সকালে ব্লক প্রশাসনিক ভবনে এই প্রকল্পের সূচনা করেন বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ও স্থানীয় বিধায়ক অলোক মাঝি। পরে ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন গ্রামে থাকা আদিবাসী-সহ পিছিয়ে পড়া অন্যান্য শ্রেণির মানুষজনের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের হাতে জাতিগত শংসাপত্র (caste certificate) পৌঁছে দেন। আদিবাসী দিবসে বাড়িতে বসে জাতিগত শংসাপত্র পেয়ে খুশি আবেদনকারী আদিবাসীরা।
বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হয় ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। মানুষের দরজায় সরকারকে পৌঁছে দিতে এই প্রকল্প চালু করেন তিনি। সরকারি দপ্তরে দৌড়ানোর পরিবর্তে নিজের এলাকায় বসে বিভিন্ন কাজের সমাধান হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই প্রকল্প। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পরবর্তীতে ‘দুয়ারে রেশন’, ‘দুয়ারে পুলিশ’ প্রভৃতি কর্মসূচি নেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তারই অনুকরণে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে (world tribal day) আবেদনকারী আদিবাসীদের ‘দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র’ প্রদানের কর্মসূচি নেয় জামালপুর (Jamalpur) ব্লক প্রশাসন। এদিনের এই কর্মসূচি যথেষ্টই সাড়া ফেলেছে আদিবাসী মহলে।
জাতিগত শংসাপত্র (caste certificate) পেতে প্রত্যন্ত এলাকার অনেকেই হয়রানির অভিযোগ তোলেন। সেই হয়রানি যাতে না হয় তাই এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার। তিনি বলেন, ‘দুয়ারে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম দিনেই ৮৯২ জন জাতিগত শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও এমন আরও নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে।’ বিধায়ক অলোক মাঝি ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘আগে কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য মানুষকে চূড়ান্ত হয়রান হতে হত। দপ্তরে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে গেলেও সার্টিফিকেট মিলত না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী হওয়ায় কাস্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জটিলতার দিন শেষ হয়েছে। এখন ঘরে বসেই মানুষজন জাতিগত শংসাপত্র পেয়ে যাচ্ছেন। এদিন বাড়িতে বসেই জামালপুরের (Jamalpur) ৮৯২ জন কাস্ট সার্টিফিকেট পেলেন।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী দিনেও মানুষের পাশে এ ভাবেই থাকবে বলে মেহেমুদ খান জানান।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top