অভিযোগের নিষ্পত্তি পাড়াতে বসেই, শুরু হল ‘দুয়ারে পুলিশ’ কর্মসূচি

IMG-20210704-WA0001.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ‘দুয়ারে সরকার’-এর পরে এ বার শুরু হল ‘দুয়ারে পুলিশ’ কর্মসূচি।
এ বার থেকে মানুষের অভিযোগ শুনতে পুলিশ আধিকারিকরা পুলিশ আধিকারিকরাই পৌঁছে যাবেন আপনার এলাকায়। মূলত জনসংযোগ বাড়াতে এমনই কর্মসূচি শুরু করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। শনিবার প্রথম শিবিরটি অনুষ্ঠিত হল জেলার ভাতার থানার মাহাতা গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিবাসী অধ্যুষিত দুধবাগান এলাকায়। এদিনের এই শিবির এলাকাবাসীর মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। শিবিরে ছিলেন ডিএসপি (ডিআইবি) বীরেন্দ্র কুমার পাঠক, সার্কেল ইনস্পেক্টর (এ) সাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাতার থানার ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য পুলিশ আধিকারিকরা।
এদিকে আইনরক্ষকদের সামনে পেয়ে এলাকার প্রায় ৫০-৬০ জন বাসিন্দা নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগের কথা জানান। কেউ পারিবারিক সমস্যা, কেউ প্রয়োজনীয় নথিপত্র হারিয়ে যাওয়া বা কেউ আবার এলাকার নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমাধান এবং বাকি ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন পুলিশ কর্তারা। অভিযোগ শোনার পাশাপাশি কোভিডের তৃতীয় ঢেউ নিয়েও এদিন জনগণকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেন তাঁরা। পুলিশের এমন উদ্যোগে খুশি দুধবাগান এলাকার বাসিন্দারা। সুবল কিস্কু, সোনামণি হাঁসদারা জানান, কোনও অভিযোগ নিয়ে থানায় যাতায়াত থেকে ব্যস্ততার মধ্যে অফিসারদের সময় পাওয়া— সব মিলিয়ে নানা ঝক্কি। সে জায়গায় নিজের এলাকায় বসে কাজ হয়ে গেলে তো খুবই ভালো। মাঝে মধ্যেই যাতে এমন শিবির করা যায়, তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‘দুয়ারে পুলিশ’ কসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়বে বলে মত জেলার পুলিশ কর্তাদের। পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি থানার অনেক এলাকা সমস্যাসঙ্কুল বলে মনে করেন পুলিশ কর্তারা। নানা কারণে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন না। সেই সব এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানুষজনের সমস্যা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সমস্যার সমাধান দ্রুত যাতে করা যায় সেই কারণেই এমন কর্মসূচির আয়োজন। জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন বলেন, ‘দুয়ারে পুলিশ কর্মসূচির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট এলাকা ধরে এমন শিবির করা হবে।’
ডিএসপি (ডিআইবি) বীরেন্দ্র কুমার পাঠক এদিন বলেন, ‘ভাতার থানা থেকে মাহাতা দুধবাগান এলাকার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সেই কারণে এই এলাকার অনেক মানুষ এতটা দূরত্ব পেরিয়ে সব সময় থানায় আসতে পারেন না। দুয়ারে পুলিশ কর্মসূচিতে হাজির হয়ে এদিন গ্রামের বহু মানুষ তাঁদের সমস্যা ও অভিযোগের কথা লিখিত আকারে জানালেন। এমন কর্মসূচি আয়োজনের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক তৈরি হবে। তেমনি যে কোনও অভাব-অভিযোগ নিয়ে নিজের এলাকায় তাঁরা পুলিশের কাছেও পৌঁছতে পারবেন। কারণ আইন রক্ষকরাই পৌঁছে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষজনের একেবারে নিকটে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায় জানান, এদিন থেকে জেলায় শুরু হল দুয়ারে পুলিশ কর্মসূচি। প্রতিটি থানার নির্দিষ্ট এলাকায় সময় নির্ধারণ করে এই শিবিরগুলি করা হবে। শিবির করার আগে ওই এলাকায় প্রচার করা হবে। শিবিরে সংশ্লিষ্ট থানার আইসি অথবা ওসি ছাড়াও আধিকারিকরা থাকবেন। এতে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top