গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় দলের কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত তৃণমূলকর্মী

Polish_20210703_011404317.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় দলেরই কর্মীদের হাতে প্রহৃত হলেন এক তৃণমূল কর্মী। আক্রান্তের নাম আব্দুল মতিন শেখ। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার আবুজহাটি-২ পঞ্চায়েতের কাঁটাগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মতিন। মারধরের ঘটনায় গ্রামেরই তিন কর্মীর নামে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রহৃত ওই তৃণমূল কর্মী। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরাও সকলেই এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। গন্ডগোলের বিষয়টি মেনেও নিয়েছেন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নেতারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে আবুজহাটির কাঁটাগড়িয়া গ্রামের সেচখালের ধারে থাকা কয়েকটি গাছ কাটা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ বাধে। একটি গোষ্ঠীর নেতা আবুজহাটি ২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সমর পাল। অপর গোষ্ঠীতে রয়েছেন ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খানের অনুগামীরা। তাঁরা সমর পালের অনুগামীদের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে গাছ কাটার অভিযোগ এনে সেচ দপ্তর-সহ প্রশাসনে নানা মহলে অভিযোগ জানান। তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ চরমে ওঠে। এর জেরে মেহেমুদ খানের অনুগামী আব্দুল মতিন শেখকে বুধবার বিকালে উপপ্রধান সমর পালের অনুমাগীরা ব্যাপক মারধর করেন বলে অভিযোগ। মারধরে সংজ্ঞা হারান আব্দুল মতিন। গ্রামের একটি জমির ধারে পড়ে ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে মেহেমুদ খান গোষ্ঠীর লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, উপপ্রধানের অনুগত রহিম মল্লিক, নিসান চৌধুরী ও শেখ সাহাদত তাঁকে মারধর করেছেন। ওই তিন জনই গত বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে লাঠি, রড দিয়ে মারধর করে। গাছ কেটে পাচারের ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন বলেই এই হামলা বলে তাঁর দাবি। এমনকী গাছা কাটা নিয়ে আরও যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদেরকেও মারধর করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে আব্দুল মতিন পুলিশকে জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গাছ কাটা নিয়ে সেচ দপ্তরও জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে মেহেমুদ খান অনুগামী তথা ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ভূতনাথ মালিক বলেন, ‘যারা বেআইনি ভাবে গাছ কেটেছে এবং গাছ কাটার ঘটনার প্রতিবাদ করায় হামলা চালাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মহলে জানিয়েছি।’ অন্যদিকে উপপ্রধান সমর পাল বলেন, ‘পঞ্চায়েতের গাছ গ্রামের উন্নয়ন কাজে লাগানোর জন্যে কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে গাছ কাটতে বাধা সৃষ্টি করা হয়। গ্রামবাসীরা তার প্রতিবাদ করেছেন। কেউ কাউকে মারধর করেনি। সব সাজানো ঘটনা। এই সব মিথ্যা অভিযোগ এনে গ্রামের পরিবেশ উত্তপ্ত করা হচ্ছে।’
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার ওই গ্রামে দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top