তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের দ্বারস্থ দলেরই বিধায়ক

Purbathali-Panchayat.jpg

বর্ধমান: শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের (Panchayat) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। তা নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলেরই এক বিধায়ক। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে ঘটেছে এমন ঘটনা।
ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী (Purbasthali)। সেখানকার জাহান্নগর ও দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজে ভূয়ো মাস্টার রোল তৈরি করে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এ ছাড়াও নানা বিষয়ে অনিয়মের দাবি জানিয়েছেন পূর্বস্থলী (Purbasthali) উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। আর কেবল অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হননি তিনি। দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিধায়ক। এ জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
যদিও বিধায়কের আনা এই সব অভিযোগ সত্য নয় বলে দু’টি পঞ্চায়েতের তরফেই দাবি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহান্নগর ও দোগাছিয়া পঞ্চায়েত দু’টি পূর্বস্থলী (Purbasthali) উত্তর বিধানসভার পূর্বস্থলী ১ ব্লকে অবস্থিত। জেলাশাসক এবং জেলা পরিষদ সভাধিপতির কাছে দুই পঞ্চায়েত নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য — জাহান্নগর গ্রাম পঞ্চায়েত (Panchayat) এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে বেশি হারে ট্যাক্স নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডার না ডেকে পক্ষপাতিত্ব করা হয় এই পঞ্চায়েতে।
অন্যদিকে দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বিধায়কের অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েত (Panchayat) ১০০ দিনের কাজের ভুয়ো মাস্টার রোল তৈরি করে আর্থিক দুর্নীতি করে। এই পঞ্চায়েতও উন্নয়ন কাজের ই-টেন্ডার ডাকে না। বরং নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়। বিধায়কের আরও অভিযোগ, পশ্চিম মুদাফর এলাকায় ১ হাজার শ্রমিকেরও কাজ হয়নি। সে জায়গায় ছ’হাজার শ্রমিক কাজ করেছেন দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় ।
যদিও বিধায়কের আনা এমন সব অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহান্নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুভাষ ঘোষ বলেন, ‘বিধায়ককে কেউ ভুল বুঝিয়েছেন। তাই তিনি এমন সব অভিযোগ আনছেন। উনি চাইলে পঞ্চায়েতে (Panchayat) এসে যে কোনও বিষয়ে সবিস্তার তথ্য নিজে দেখে যেতে পারেন।’ অন্য দিকে দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ইলিজা শেখ দাবি করেন, ‘অভিযোগ ঠিক নয়। ১০০ দিনের কাজে কোনও দুর্নীতি হয়নি।’
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হবে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top