রাস্তায় দাঁড় করিয়ে গুলি, মঙ্গলকোটে খুন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি

Polish_20210713_003710616.jpg

বর্ধমান: রাস্তার মধ্যে বাইক দাঁড় করিয়ে তৃণমূল নেতাকে গুলি চালিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন অসীম দাস নামে ওই তৃণমূল নেতা। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলকোটের সিওর গ্রামের কাছে। অসীম স্থানীয় লাখুরিয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। এই ঘটনার পর বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয় মানতে না পেরে তৃণমূল নেতাকে খুন করেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের দাবি, নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরেই খুন হয়েছেন অসীম।
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় বলেন, ‘পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’ মঙ্গলকোট বিধানসভার পর্যবেক্ষক তথা বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘অসীম দক্ষ সংগঠক ছিলেন। বিজেপির লোকজনই পরিকল্পা করে তাঁকে খুন করেছে।’ মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বুধবার তিনি মঙ্গলকোট আসছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ কাশেমনগর বাজার থেকে মোটরবাইকে একাই সিওর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন অসীম। গ্রামের কাছেই তাঁর বাইক দাঁড় করায় দুষ্কৃতীরা। এর পর খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। এদিকে গুলির আওয়াজ পেয়ে আশপাশের লোকজন দৌড়ে গিয়ে দেখেন, বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন অসীম। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় অসীমকে মঙ্গলকোট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যান মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী সহ অন্য তৃণমূল নেতারা। খুনের কথা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জেলার উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দুষ্কৃতীদের খোঁজে পার্শ্ববর্তী জেলার সীমানাতেও জোরদার নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অসীম দাস খুনের ঘটনায় বিজেপির যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মঙ্গলকোটের তৃমূলের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরীও। একই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু। তাঁর অভিযোগ, ‘ভোটে হেরে যাওয়ার বদলা নিতেই মঙ্গলকোটের বিজেপি কর্মীরা এখন সন্ত্রাস, খুনের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে।’ তবে খুনিরা কেউ চাড় পাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেবু।
যদিও বিজেপির বর্ধমান পূর্ব (গ্রামীণ) জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনীল দত্তর দাবি, ‘তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তা ধাপাচাপা দিতেই তৃণমূলের নেতারা বিজেপির দিকে আঙুল তুলছেন। পুলিশ সঠিক তদন্ত করেলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top