মঙ্গলকোটে তৃণমূল নেতা খুনে নিয়োগ করা হয়েছিল সুপারি কিলার

Polish_20210814_234617014.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
মঙ্গলকোটের (Mangalkot) তৃণমূল নেতা অসীম দাস খুনের (murder) তদন্তে নেমে একে একে জাল গোটাচ্ছে সিআইডি। খুনের (murder) ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড শেখ রাজুকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার রাতে বীরভূম থেকে শেখ বাবুল ওরফে খোকন নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বোলপুর থানার ঘিদহ গ্রামের বাসিন্দা এই বাবুলকেই সুপারি কিলার হিসেবে নিয়োগ করা করা হয়েছিল। এ জন্য তার সঙ্গে পাঁচ লক্ষ টাকার রফা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, অবৈধ বালির কারবারে বাধা পেয়েই তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে মঙ্গলকোটের (Mangalkot) বালি মাফিয়া শেখ রাজু। সেই মতো পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে বাবুলকে সুপারি কিলার হিসেবে নিয়োগ করে সে। এই বাবুলই গুলি চালিয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। রাজুকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জেরা করে বাবুলের নাম জানতে পারে সিআইডি। তবে এলাকার অনেকের মতে, বেআইনি বালির কারবারে হাতে টাকা আসায় এলাকার রাজুর প্রভাব ভালোই বেড়েছিল। ফলে তাকেও তৃণমূলের কোনও পদে বসানোর দাবি ওঠে দলের একটি অংশ থেকে। কিন্তু সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় অসীমের সঙ্গে শত্রুতা বেড়ে যায়।
এদিকে ধৃত শেখ রাজু ও শেখ বাবুলকে শনিবার কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি অফিসার ধৃতদের ১৪ দিনের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতদের ১০ দিন সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচ জন গ্রেপ্তার হল।
মঙ্গলকোটের (Mangalkot) সিউর গ্রামের বাসিন্দা লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি অসীম দাসের। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি কাসেমনগর বাজার থেকে বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি করে তাঁকে খুন (murder) করে। প্রথমে সিট গঠন করে পুলিশ এই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পরে রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে তদন্তভার সিআইডি নিজেদের হাতে নেয়। এর পর সিআইডি জালে একের পর এক ধরা পড়ে দুষ্কৃতী সাবুল শেখ, সামু শেখ ও রফিকুল শেখ। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি কর্তারা জানতে পারেন, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে খুনের (murder) মাস্টারমাইন্ড বালি মাফিয়া রাজু শেখর নাম। এই রাজুর আদি বাড়ি বীরভূম জেলার নানুর থানা এলাকার সিদাই গ্রামে। তবে চার বছর ধরে সে মঙ্গলকোটের মল্লিকপুর গ্রামে থেকে অবৈধ বালির কারবার চালাচ্ছিল। অসীম খুনের পর থেকেই গা ঢাকা দেয় রাজু। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দিল্লি থেকে তাকে ধরে আনে পুলিশ।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top