গায়ের রং কালো হওয়ায় শৈশবে রবীন্দ্রনাথকে কোলে নিতেন না মা, মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষের

Subhash-Sarkar-Rabindranath-Tagore.jpg

বোলপুর ও বর্ধমান: শৈশবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) কালো ছিলেন। তাই তাঁকে ঠাকুর বাড়ির কেউ কোলে নিতেন না। বিশ্বভারতীর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার (Subhash Sarkar)। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা নীতি নিয়েও বেশ কিছু মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার বিশ্বভারতীর সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুভাষ সরকার (Subhash Sarkar), বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী-সহ অন্যান্যরা। সেখানেই সুভাষ বলেন, ঠাকুর বাড়ির সকলের গায়ের রং ধবধবে ফর্সা ছিল। তবে ফর্সা সাধারণত দুই প্রকারের হয়। এক জন টকটকে হলুদ। আর এক জন হচ্ছে ফর্সার মধ্যে একটু লাল ভাব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) গায়ের রং দ্বিতীয় ধরনের। তাঁর মা এবং বাড়ির অনেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) কালো বলে তাঁকে কোলে নিতেন না। সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষের হয়ে বিশ্বজয় করেছেন।’
এদিকে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সুভাষ (Subhash Sarkar) বলেন, ‘নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি রবীন্দ্রনাথের (Rabindranath Tagore) ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ। তিনি যে ভাবে শিক্ষা প্রসারের চেষ্টা করেছিলেন, যার জন্য বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা এবং সেই শিক্ষার ভাবনা প্রয়োগ, সে ভাবেই নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারও তা মেনে নিতে বাধ্য হবে।’ যদিও সুভাষের এই যুক্তি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, নতুন শিক্ষানীতির খসড়ায় দু-একটি নিয়ম বিশ্বভারতীর ধাঁচে হলেও, তা গোটা পদ্ধতির তুলনায় সামান্যই।
অন্যদিকে, এদিনই বর্ধমানে শহিদ সম্মান যাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে স্কুল-কলেজ না খোলা নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন কেন্দ্রের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ (Subhash Sarkar)। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ কমছে। তাই এই রাজ্যে পার্ক খুলে দেওয়া হলেও স্কুল খোলার ব্যাপারে কোনও চিন্তা ভাবনা নেই। অথচ স্কুল ও কলেজের বিষয়টি কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ ব্যাপার। ২০২০ সালের ১৭ মে ১৩টি অ্যাডভাইজরি পাঠানো হয়েছে। এর একটিও স্কুলে পাঠায়নি রাজ্য। তারা শুধু রাজনীতি করতেই ব্যস্ত আছে।’
‘শহীদ সম্মান যাত্রা’ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যে ৪০ জনের বেশি বিজেপি কর্মী মারা গিয়েছেন। অত্যাচার এখনও চলছে। সেই সব শহিদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ও শহিদদের সম্মান জানাতেই এই শহীদ সম্মান যাত্রা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।’
এদিন বর্ধমানে দলীয় কর্মসূচি সেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। এর পর তিনি খণ্ডঘোষের চান্না গ্রামে সাধক কমলাকান্ত ও বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্রম পরিদর্শন করেন।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top