প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে একাধিক তরুণীকে বিয়ে করে নির্যাতন, গ্রেপ্তার যুবক

MOTIF.jpg

প্রতীকী ছবি

বর্ধমান: প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে একাধিক তরুণীকে বিয়ে করার পর তাঁদের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হল এক যুবক। ধৃতের নাম লক্ষ্মণ দাস ওরফে অজয় সিং। বাড়ি বর্ধমান শহর লাগোয়া সদরঘাট এলাকায়। দুই স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার পুলিশ দু’টি পৃথক মামলা রুজু করে মঙ্গলবার রাতে আমড়া বাজার থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ২ জুন ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে লক্ষ্মণ দাস নামে ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শক্তিগড় থানার শিলেপাড়ার বাসিন্দা মাম্পি জানা। পরে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে গিয়ে দু’জনে বিয়ে করেন। বিয়ের বছর দু’য়েক পর স্বামীর অন্য মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কথা জানতে পারেন মাম্পি। তা নিয়ে প্রতিবাদ করায় মাম্পির উপর নির্যাতন শুরু হয় এবং দিন দিন তা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করেন লক্ষ্মণ। অভিযোগ, লক্ষ্মণ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মিলে রবিবার সন্ধ্যায় মাম্পিকে মারধর করেন। এর পরই মাম্পি শক্তিগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে আমড়ার বাসিন্দা বিউটি মালিক নামে এক মহিলা শক্তিগড় থানায় অভিযোগ করে জানান, গতবছর নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক পাতায় লক্ষ্মণ। কিছুদিন পর তাঁকে বিয়েও করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে লক্ষ্মণ তাঁর উপরেও অত্যাচার চালাতে শুরু করে। বর্তমানে বিউটি ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। রবিবার রাতে লক্ষ্মণ তাঁকে মারধর করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। সদরঘাটে এসে তাঁকে ফের মারধর করে। বিউটির অভিযোগ, সদরঘাটেই তিনি জানতে পারেন, লক্ষ্মণ আরও কয়েক জনকে একই ভাবে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছে। এমনটা জানার পরে বিউটি ওই রাতেই লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে শক্তিগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে দু’টি পৃথক মামলা রুজু করে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top