দলের নেতারা এগিয়ে আসেননি, মৃত বিজেপিকর্মীর দেহ সৎকার করল তৃণমূল

BJP-WARKER-BODY.jpg

হৃদরোগে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে কেউ এগিয়ে আসেননি। তাই বর্ষীয়ান বিজেপি কর্মী অনুপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৬০) দেহ আগলে রাতভর বসেছিলেন স্ত্রী রিনাদেবী। এ কথা জানার পর দলের কোনও নেতাও দেহ সৎকারে এগিয়ে আসেননি। তবে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারেননি এলাকার তৃণমূলকর্মীরা। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে সৎকারের ব্যবস্থা করলেন তাঁরাই। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে শনিবার তৃণমূল কর্মীদের এমন মানবিক ভূমিকায় প্রশংসা না করে পারেননি পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার চাকতা গ্রামের বাসিন্দারা। তৃণমূল কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মৃতের স্ত্রীও।

অনুপ চাকতা গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। শুক্রবার দুপুর নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই তিনি মারা যান। কিন্তু প্রতিবেশীরা মনে করেন, কোভিড আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সেই গুজবও ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। এমনকী দলের নেতারাও বিষয়টি জানার পর এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। রিনাদেবী বলেন, ‘এলাকায় রটে যায় স্বামীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে। তাই সংক্রমণের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। আমি একাই স্বামীর দেহ আগলে রাতভর পড়েছিলাম। শেষে এদিন সকালে এলাকার তৃণমূল কর্মীরাই এসে সব ব্যবস্থা করে।’

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা বুদুন শেখ বলেন, ‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর কথা সবসময় বলেন। রিনাদেবীর অসহায় অবস্থার কথা জেনে দায়িত্ব এড়িয়ে বসে থাকতে পারিনি। রাজনৈতিক বিভেদ দূরে সরিয়ে আমাদের দলের ছেলেরাই গিয়ে সব ব্যবস্থা করে। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর দেহ সৎকারের ব্যবস্থা হয়।’ অন্যদিকে দলীয় কর্মীর মৃতদেহ সৎকারে কেউ এগিয়ে না যাওয়ার কারণ  প্রসঙ্গে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অনিল দত্ত বলেন, ‘ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই ওই এলাকার বিজেপির কর্মীরা সব গ্রামছাড়া। তাই দলের কেউ যেতে পারেননি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top