রাত থেকে লাইন দিতে হবে না, বাড়িতে বসেই পেয়ে যাবেন ভ্যাকসিনের কুপন

COVISHILD.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়া জন্য রাত থেকে লাইনে দাঁড়ানোর পরেও হয়রানির দিন এ বার শেষ হতে চলেছে। অঙ্গনওয়াড়ি বা আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন টিকা পাওয়ার কুপন। তার সূত্রে পেয়ে যাবেন ভ্যাকসিন। শুনতে অবাক লাগলেও ভ্যাকসিন নেওয়ার হয়রানি দূর করতে এমনই উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। এই ব্যবস্থা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর করুক, এমনটাই দাবি করেছেন জেলার প্রবীণ বাসিন্দারা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩৫টি কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৬ লক্ষের উপর মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তার মধ্যে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে এখনও বাকি আছে চার লক্ষ মানুষের। ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বহু মানুষ এমনকী প্রবীণরাও রাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তার পরেও কিছু মানুষ ভ্যাকসিন পেলেও অনেকের কপালে তা জুটছে না। আবার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময়সীমা বেড়ে যাওয়ায় এখন আপাতত ভ্যাকসিন দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। এর পর ভ্যাকসিন দেওয়া চালু হলে মানুষজনকে যাতে আর হয়রানির মধ্যে পড়তে না হয় তার জন্যেই জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর বাড়ি বাড়ি কুপন পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ কারা নিয়েছেন, তার ‘ডেটা বেস’ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে রয়েছে। তা দেখেই দ্বিতীয় ডোজের তালিকা তৈরি করে কুপন দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
জেলাশাসক প্রিয়ঙ্কা সিংলা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে মানুষজনকে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সে কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার নির্দিষ্ট দিনের আগে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি বা এএনএম কর্মীরা গ্রহীতার বাড়িতে গিয়ে কুপন দিয়ে আসবেন। কোন দিন, কোন সময় ভ্যাকসিন নিতে কেন্দ্রে যেতে হবে তা কুপনে উল্লেখ থাকবে। এতে জেলাবাসীর হয়রানি কমবে।’
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের মোবাইল নম্বর রয়েছে। ভ্যাকসিন পাওয়ার বিষয়ে তাঁদের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো যায় কি না সে বিষয়টি নিয়েও চিন্তা-ভাবনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top