বিজেপি কর্মীর মাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ পেয়েছেন, জানালেন তফসিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান

18021B16-CA23-4C15-B9C9-562228959EAF.jpeg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারান পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরেরনবগ্রামের বাসিন্দা বিজেপিকর্মীর মা কাকলি ক্ষেত্রপাল। বছর ৪৭এর ওই মহিলাকে ধর্ষণের পর খুনকরা হয়েছেএমন অভিযোগ পেয়েই এলাকায় এসেছেন বলে বৃহস্পতিবার জানালেন কেন্দ্রীয় তফসিলিজাতি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পলা। কেন্দ্রীয় তফসিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যানের এমনদাবি শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও জামালপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি, কমিশনেরপ্রতিনিধিরা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এমন মন্তব্য করছেন। সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি না দিলেও পুলিশপ্রশাসনেরকর্তারাও এমন অভিযোগের সঙ্গে সহমত হতে পারেননি।

ভোটের ফল প্রকাশের পরদিন রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয় জামালপুর থানার নবগ্রামের ষষ্ঠীতলাএলাকা। তৃণমূলবিজেপির সংঘর্ষে ওইদিন প্রাণ হারান এলাকার বিজেপিকর্মী আশিস ক্ষেত্রপালের মাকাকলি দুই তৃণমূলকর্মী শাজাহান শা ওরফে সাজু এবং বিভাস বাগ। এছাড়া ভোট পরবর্তী হিংসায়প্রাণ হারান জেলার রায়না থানার সমসপুরের তৃণমূলকর্মী গণেশ মালিক কেতুগ্রামের শ্রীপুরের বিজেপিকর্মী বলরাম মাজি। পাশাপাশি বর্ধমান ব্লকের বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়াতেও হিংসাছড়ায়। যার শিকার হন অনেক তফসিলি পরিবার। সেই সব ঘটনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেবৃহস্পতিবার নবগ্রামে পৌঁছন কেন্দ্রীয় তফসিলি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পলা ,ভাইসচেয়ারম্যান অরুণ হালদারসহ ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। সঙ্গে ছিলেন জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেনসহ জেলা প্রশাসন পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারা। কমিশনেপ্রতিনিধিরা গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে কাকলির বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে কারও দেখা পাওয়া যায়নি।প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেননি তাঁরা। তবে এলাকায় ঘোরার পর কমিশনের চেয়ারম্যানজানান, তফসিলি জাতি পরিবারের ওই মহিলাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে, এমন  অভিযোগ পেয়েতাঁরা নবগ্রামে এসেছেন। কিন্তু আতঙ্কের পরিবেশ এখনও অব্যাহত থাকায় নিহতের পরিবার বাপ্রতিবেশীদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত মে ভোট পরবর্তী হিংসায় নবগ্রামে খুন হন তৃণমূল কর্মী বিভাস বাগও। তাহলে তাঁরবাড়িতে গেলেন না কেন? বিজয় সাম্পলার উত্তর, যাঁদের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন, শুধুতাঁদের বিষয়েই তাঁরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন। নবগ্রাম ছাড়ার আগে তিনি জানান, কাকলি ক্ষেত্রপালেরস্বামী অনিল ক্ষেত্রপাল বর্ধমানের একটি একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। তাই সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গেকথা বলবেন।

সেই মতো তাঁরা নার্সিংহোমে গিয়ে অনিলের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরাপৌঁছে যান বর্ধমান ব্লকের বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়ায়। কয়েক দিন আগে সেখানকার১০১২টি দোকান একটি মুড়ির কারখানা ভাঙচুর করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলেরবিরুদ্ধে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে কমিশনের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে এলাকা পরিদর্শন শেষে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা বর্ধমান সার্কিট হাউসে জেলা পুলিশ প্রশাসনেরসঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘরছাড়াদেরঘরে ফেরাতে হবে। পাশাপাশি মারধর ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থানিতে হবে। কি ব্যবস্থা নেওয়া হল সে বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান এক সপ্তাহ বাদে এসে দেখে যাবেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায় জানান, ভোটপরবর্তী হিংসায় নবগ্রামে নিহতকাকলি ক্ষেত্রপাল বিভাস বাগের পরিবার যাতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায় তার প্রস্তাব রাজ্য সরকারেরকাছে এদিন পাঠানো হয়েছে। এসডিপিও (বর্ধমান সদর) আমিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ধর্ষণের পরখুনের যে তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে তা সত্য নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও ধর্ষণের কোনও উল্লেখ নেই।কাজেই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা পক্ষপাতদুষ্ট, তা মুখ্যমন্ত্রীমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলে থাকেন। এদিন বোঝা গেল মুখ্যমন্ত্রী সঠিক বলেন। কমিশনেরপ্রতিনিধিরা বেছে বেছে শুধু বিজেপি কর্মীর বাড়িতেই গেলেন। একই গ্রামে নিহত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতেতো গেলেন না। এর থেকে স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা আসলে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top