ভোট পেরিয়েও বিভিন্ন জায়গা থেকে এখনও উদ্ধার হচ্ছে বোমা

BOMA.jpg

পুলিশি পাহারায় ঘিরে রাখা হয়েছে জায়গাটি

বর্ধমান: এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় গন্ডগোলের আশঙ্কা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তেমন কোনও গন্ডগোল হয়নি। কিন্তু আশঙ্কা যে সম্পূর্ণ অমূলক ছিল না তার প্রমাণ মিলছে বিভিন্ন জায়গা থেকে এখনও বোমা উদ্ধারের ঘটনায়। শনিবার বিকালে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার বোহার অঞ্চলের বড় টিকাইপুর এলাকার রাস্তায় ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাজা বোমা। খবর পেয়ে সেগুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়। তবে রাস্তার ধারে কে বা কারা, কেন বোমা রেখেছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকাইপুর এলাকায় রাস্তার ধারে চারটি বোমা পড়েছিল। মাঠে খেলাধুলা সেরে বাড়িতে যাওয়ার সময় এক নাবালিকা ওই বোমাগুলি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায়। এর পর বাসিন্দারা খবর দেন মেমারি থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখে। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ )আমিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘চারটি তাজা বোম পাওয়া গিয়েছে। রবিবার বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা বোমা নিষ্ক্রিয় করবেন। বোমা কারা ওই জায়গায় রাখল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।’
তবে কোনও শিশু বোমাগুলিকে বল ভেবে খেলতে গেলে কী হত সেটা ভেবেই সিউড়ে উঠছেন এলাকার বাসিন্দারা। কারণ ভোটের আগে বর্ধমান শহরে পড়ে থাকা বোমাকে বল ভেবে খেলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক শিশুর। বাসিন্দাদের বক্তব্য, যে-ই করুক এ ভাবে বোমা ফেলে রাখা উচিত হয়নি।
এদিকে মেমারির বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে। এখানেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভয় ভীতি তৈরি করতে তৃণমূলের লোকজন বোমা ফেলে রেখেছে। যদিও মেমারি-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মহম্মদ ইসমাইল জানিয়েছেন, এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ কায়েম করতে বিজেপি লোকজনই বোমা ফেলে রেখে এলাকা অশান্ত করতে চাইছে। কারণ বিজেপি হিংসা ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতেই বিশ্বাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top