৬ ঘণ্টায় ভাড়া ৩৩ হাজার! গয়না বন্ধক রেখে অ্যাম্বুল্যান্সের বিল মেটালেন বধূ

AMBULANCE-1.jpg

হুগলি: গত বছর লকডাউনের সময় থেকেই এক শ্রেণির অসাধু অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের বিরুদ্ধে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কখনও অ্যাম্বুল্যান্স, কখনও অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নিয়ে তেমনই এক অমানবিকতার অভিযোগ উঠল হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল ঘোরার পর ভর্তি করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যান উত্তরপাড়ার বাসিন্দা তনুশ্রী মজুমদার। এর পরেই অ্যাম্বুল্যান্স চালক ৩৩ হাজার টাকা দাবি করে বসেন। এতগুলো টাকা হাতে না থাকায় অ্যাম্বুল্যান্স চালকের জোরাজুরিতে শেষমেশ গয়না বন্ধক করে টাকা মেটান ওই বধূ।

কিন্তু মাত্র ঘণ্টা ছয়েকের জন্য এত টাকা! অ্যাম্বুল্যান্স মালিক উত্তম ঘোষের সাফাই, ‘ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি সিসিইউ সুবিধাযুক্ত। ফলে এর খরচ অনেকটা বেশি। তবে আমরা জানতাম না যে উনি গয়না বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে কিছুটা কম নেওয়া যেত।’

উত্তরপাড়ার বাসিন্দা তনুশ্রীর স্বামী বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ। এলাকারই একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার কোনও হাসপাতালে স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তনুশ্রী। সেই মতো একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে বৃহস্পতিবার বিকেলে রওনা হন। ঠিক হয় ১৩ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু কলকাতায় গিয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরেও শয্যার অভাবে স্বামীকে ভর্তি করতে পারেননি তিনি। তাই স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এর পরেই শুরু হয় নাটক। একাধিক হাসপাতাল ঘুরে ফেরার জন্য সব মিলিয়ে ৩৩ হাজার টাকা দাবি করেন অ্যাম্বুল্যান্স চালক। এতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তনুশ্রীর। বধূর বক্তব্য, ১৩ হাজার টাকা রফা হয়েছিল। সে জায়গায় আরও কিছু টাকা বেশি নেওয়ার কথা। কিন্তু ৩৩ হাজার! অনেক বুঝিয়েও অ্যাম্বুল্যান্স চালক রাজি না হওয়ায় গয়না বন্ধক রেখে এবং প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে ওই টাকা মেটাতে বাধ্য হন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top