গ্রাম থেকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় গন্ডগোলে স্বাস্থ্যকর্মীদের মার, ধৃত ১০

WhatsApp-Image-2021-05-11-at-8.14.36-PM.jpeg

বর্ধমান: পাশের গ্রামে স্থানান্তর হচ্ছিল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এ নিয়ে আগেই আপত্তি তুলেছিলেন বাসিন্দারা। সেই আপত্তি না মেনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিনিসপত্র সরানোর কাজ শুরু করলে গ্রামের একাংশ স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তার ভিত্তিতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে চার জন মহিলা। সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খণ্ডঘোষ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনে নবগ্রামে ভাড়াবাড়িতে রয়েছে একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পরিকাঠামো ঠিক না থাকায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পাশের বিচখাড়া গ্রামে নতুন ভবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা জানতে পারার পর থেকেই নবগ্রামের বাসিন্দারা আপত্তি তোলেন। আপত্তির কথা তাঁরা প্রশাসনের নানা মহলেও জানান। যদিও সেই আপত্তি গ্রাহ্য হয়নি। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা লোকজন নিয়ে মালপত্র বিচখাড়া গ্রামের নতুন ভবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ শুরু করেন। তখন নবগ্রামের বাসিন্দারা স্বাস্থ্য দপ্তরের ওই কর্মীদের বাধা দেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ। এমনকী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিনিসপত্রও তাঁরা  আটকে রাখেন। এই খবর পেয়ে খণ্ডঘোষ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীদের উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনার কথা জানিয়ে খণ্ডঘোষ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ চিকিৎসক জয়ন্তী মাহাতো সরকার খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রদীপ মাঝি ওরফে বিপত্তারণ, তাপস খাড়াৎ, রাহুল সাঁতরা, শিবু মাঝি, মিলন ধাড়া, বিজয় মাঝি, অলোকা সাঁতরা, টুলু শী, বন্দনা মাঝি ও শিখা খাড়াৎ। সকলের বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার নবগ্রামে। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ প্রদীপ ও তাপসকে সাত দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম এই দু’জনকে চার দিনের পুলিশি হেফাজত ও বাকিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শনিবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top