সম্পত্তি হাতাতে শ্বশুরকে খুনের অভিযোগ জামাইয়ের বিরুদ্ধে

MURDER-AT-MANTESWAR.jpg

বর্ধমান: সম্পত্তির লোভে শ্বশুরকে নৃশংস ভাবে খুনের অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগর এলাকায়। মন্তেশ্বর থানার পুলিশ এদিনই মৃত শ্বশুর নুর আলম মিদ্দার (৬৫) দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠায়। নুর আলমের মেয়ে হাসিরা বেগম তাঁর বাবার মৃত্যুর জন্য স্বামী নসরত শেখ-সহ তিন জনের নামে মন্তেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্তেশ্বরের দীর্ঘনগর এলাকাতেই বাড়ি নুর আলম মিদ্দার। এদিন সকালে বাড়ি সংলগ্ন সার্ভিসিং সেন্টারের মধ্যে ওই বৃদ্ধকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে।
হাসিরা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, ৮ বছর আগে স্থানীয় আজহারনগরে যুবক নসরত শেখের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তিনটি সন্তান রয়েছে। একমাত্র মেয়ে হাসিরা ও জামাই নসরতের জীবন যাতে সুখের হয় তার জন্যে নুর আলম দীর্ঘনগরে বাড়ির সামনেই জামাইকে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টারও করে দেন। পাশাপাশি কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে পাওয়া কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে জামাইকে একটি পিকআপ ভ্যানও কিনে দেন। এত কিছু দিয়েও জামাইকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি নুর আলম। এর পর থেকে জমি, বাড়ি-সহ যাবতীয় সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্যে নসরত তাঁর শ্বশুরকে চাপ দেওয়া শুরু করেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নুর আলম তাঁর সব সম্পত্তি জামাইকে দিয়েও দেন। এর পর শ্বশুরের দেওয়া জমি ও বাড়ি বন্ধক দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা লোন নেওয়ার জন্য নসরত উঠে পড়ে লাগেন। হাসিরা বলেন, ‘সম্প্রতি বাবা জানতে পারে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পর নসরত মোজাহারনগরে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। তা নিয়ে অশান্তি চরমে উঠলে আমি স্বামীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা করি। সেই কথা জানতে পেরেই স্বামী গা ঢাকা দেয়। এদিকে জামাইয়ের কীর্তিকলাপ
মেনে নিতে না পেরে বাবা জামাইকে লিখে দেওয়া সব সম্পত্তি ফিরিয়ে নেয়। এবং সেই সম্পত্তি আমাকে দেবে বলেও ঠিক করে বাবা। এই কথা জানতে পারার পর থেকেই আমার স্বামী বাবাকে হুমকি দেওয়া শুরু করে। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়িতে আমার উপর আরও বেশি করে নির্যাতন শুরু হয়। প্রাণ সংশয়ের কথা ভেবে কিছু দিন আগে বাবা আমাকে বাড়িতে নিয়ে চলে আসে। মঙ্গলবার রাতেও ফোন করে বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আর এদিন বাবার দেহ উদ্ধার হল। আমি নিশ্চিত স্বামীই বাবাকে খুন করেছে।’
মৃতের ভাইপো আব্বাস শেখ বলেন, ‘জামাইকে দেওয়া সব সম্পত্তি কাকা তাঁর মেয়ের নামে মেয়ের নামে করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। এর পর থেকে নসরত বারবার কাকাকে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। সম্পত্তির লোভে জামাইয়ে কাকাকে মেরেছে বলে আমাদের অনুমান।’
ঘটনা প্রসঙ্গে এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য বলেন, ‘বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় তিন জনের নামে অভিযোগ জমা পড়েছে। এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top