নরেন্দ্র মোদীকে ভারতের ‘কু-পুত্র’ বলে বিতর্কে রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী

IMG-20210711-WA0001.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: আয়োজন ছিল পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচি। তাতে যোগ দিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। বিজেপির একাংশ কর্মীকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে ‘কু-পুত্র’ বলে উল্লেখ করেন। যা প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপিও। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের একজন মন্ত্রী হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত।
রবিবার রাজ্যজুড়েই পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মতো বিভিন্ন এলাকার বিধায়করা নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন। ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী গোরুর গাড়ি চালিয়ে প্রতিবাদ করেন। বর্ধমানের বিধায়ক খোকন দাস আবার সাইকেল চালান। কোথাও আবার গাড়িতে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে নিজের বিধানসভা এলাকা পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম ও সাতগেছিয়া বাজার এলাকায় দলের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন সিদ্দিকুল্লা। সেখানকার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে তুলোধনা করেন সিদ্দিকুল্লা। পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। আর তার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ভারতের ‘কু-পুত্র’ বলে আক্রমণ করে বসেন।
তবে এখানেই শেষ নয়, বিজেপি কর্মীদের হুঁশিয়ারিও দেন তিন। মন্ত্রী বলেন, ‘সেই সব গ্রামগুলি আমি চিনি, যেখানে বিজেপির কর্মীরা অনেক মুসলমান বাড়ির সামনে কাফন রেখেছিল। যারা রেখেছিল তারাও মুসলমান। তাদেরও টুপি আছে, দাড়িও আছে। নামাজ তারাও পড়ে। তবে তারা কুড়ি হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আমরা প্রথমে ওদের ঝাড়ফুঁক করব। তেল ও পানি পোড়া দেব। তাতে যদি ঠিক হয়ে যায় তো ঠিক আছে। না হলে ৭০ ডিগ্রি বা ৮০ ডিগ্রির বিষয়টি পরে ভেবে দেখা হবে।’
এদিকে মন্ত্রীর বক্তব্যের ভিডিয়ো সামনে আসতেই নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘সংবিধানের শপথ নেওয়া রাজ্যের একজন মন্ত্রী যে ভাষায় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আপমান করছেন তা কার্যত নজিরবিহীন। আবার মন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, এই রাজ্যে বিরোধীদের নিকেশ করতে চায় শাসকদল। তারই ইঙ্গিত দিতে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ঝাড়ফুঁক, তেলপোড়া, পাণিপোড়া, ৭০ডিগ্রি, ৮০ ডিগ্রির প্রসঙ্গ তুলেছেন। তবে এই সব হুঁশিয়ারি দিয়ে লাভ কিছু হবে না। কারণ দেশের আইনি শাসন ব্যবস্থা অনুযায়ী বিরোধীদেরও রাজনীতি করার ও মত প্রকাশের আধিকার রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top