কোভিডে গ্রামীণ এলাকায় কাজ করবেন কোয়াক ডাক্তাররা, শুরু প্রশিক্ষণ

quack-doctors.jpg

প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন গ্রামীণ এলাকার কোয়াক ডাক্তাররা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়: কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ বার স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন কোয়াক ডাক্তারা। এ জন্যে রাজ্য জুড়েই তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবির। এদিন বিএমওএইচ ঋত্বিক ঘোষ-সহ অন্যান্য চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসাররা শতাধিক কোয়াক ডাক্তারকে প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণ নিয়েই কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে পড়ার অঙ্গীকার করেন কোয়াক ডাক্তাররা।
রাজ্যে প্রতিদিনই কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত ১৫ এপ্রিল শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২০২ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওই দিন পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ২২৪। তার পর থেকে পরবর্তী ৩২ দিনে অর্থাৎ ১৭ মে পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৪৪১ জন। স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া এই তথ্য থেকেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছে, গত ৩২দিনে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ২১৭ জন। অপর দিকে ১৫ এপ্রিল প্রর্যন্ত জেলায় কোভিডে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৮০ জন। ১৭ মে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ২৬১ জনে। অর্থাৎ গত ৩৩ দিনে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে জেলায় ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে স্বাস্থ্য দপ্তরের এই রিপোর্ট-ই ভাবিয়ে তোলে রাজ্য প্রশাসনকে। তার পরেই গ্রামীণ এলাকায় কোভিড সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গ্রামীণ ডাক্তারদের কাজে লাগানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হয় স্বাস্থ্য দপ্তর।
কোভিড মহামারীর চেহারা নিলেও গ্রামীণ এলাকার মানুষজন এখনও সে ভাবে সচেতন নন। সংক্রমণের লক্ষণ থাকলেও অজ্ঞতার কারণে চিকিৎসার ব্যাপারেও অবহেলা করেন অনেক। তাই এ বার থেকে গ্রামে গ্রামে কোভিড সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করবেন কোয়াক ডাক্তাররা। জামালপুরের বিএমওএইচ ঋত্বিক ঘোষ বলেন, ‘জামালপুর ব্লকে ৩৮৪ জন কোয়াক ডাক্তার রয়েছেন। তাঁদের জন্যই দু’দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার মানুষজন কোয়াক ডাক্তারের কাছেই চিকিৎসা করাতে যান। এখন থেকে তাঁরা কোনও রোগীর মধ্যে কোভিড লক্ষণ দেখলে হাসপাতালে জানাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই ব্যক্তির কোভিড চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘করোনার থাবা থেকে বাংলার মানুষকে বাঁচানোই এখন রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই কাজে কোয়াক ডাক্তারদেরও এ বার নিয়োগ করা হল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top