ট্রেন বন্ধে সংসার চলছে না, স্টাফ স্পেশ্যাল আটকে বিক্ষোভ সোনারপুরে

Staff-special-blocked-at-sonarpur.jpg

স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন আটকে চলছে বিক্ষোভ

বারুইপুর: লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে স্টাফ স্পেশ্যাল আটকে অবরোধ সোনারপুর স্টেশনে। স্টাফ স্পেশ্যালে সাধারণ যাত্রীদের উঠতে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান নিত্যযাত্রীরা। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এখন সব কিছুই প্রায় খুলে গিয়েছে। অথচ লোকাল ট্রেন না চলায় তাঁদের রুটি-রুজিতে টান পড়েছে। কেউ কেউ আবার বলেন, কাজে যেতে না পেরে পেটে ভাত জুটছে না। তাই না খেয়ে মরার আগে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাচক্রে বিক্ষোভের ঘটনাটি সোনারপুরে হলেও, বিক্ষোভকারীদের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন শিয়ালদহ ও হাওড়ার বিভিন্ন শাখার যাত্রীরা।
বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ সোনারপুর স্টেশনে জড়ো হন নিত্যযাত্রীরা। স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। এর জেরে আপ ও ডাউনে লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ক্যানিং, নামখানা, কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার রুটের স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি আটকে পড়ে। ফলে রেলকর্মী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও আটকে পড়েন। রেল কর্তৃপক্ষ এবং আরপিএফ বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর চেষ্টার পাশাপাশি রেলের তরফে জানানো হয়, তাঁরা ট্রেন চালাতে চান। তবে এ ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন। প্রায় চার ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ মার্চ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ ছিল ট্রেন পরিষেবা। সংক্রমণ কমার পর গত ১১ নভেম্বরে ফের লোকাল ট্রেন চালু হয়। এর মধ্যে আসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। রাজ্যে নতুন করে জারি হয় বিধিনিষেধ। তার আওতায় লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কিছু ট্রেন রেলকর্মীদের জন্য আগাগোড়াই চালানো হচ্ছিল। সম্প্রতি সেই স্পেশ্যাল ট্রেনে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, বিএসএনএল, হাই কোর্ট ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে চরম বিপাকে রয়েছেন গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে কাজ করতে আসা মানুষ। বিশেষ করে পরিচারিকা, শ্রমিক শ্রেণির মানুষ বা বিভিন্ন অফিসে কাজকর্ম করা মানুষ। অনুপস্থিতির কারণে অনেকে আবার কাজ হারিয়েছেন। ফলে উপার্জন না থাকায় সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এদিন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রদীপ সাহা নামে এক যাত্রী বলেন, ‘কে কত দিন বসে বসে বেতন দেবে? বহু মানুষ কাজ হারাচ্ছেন। ট্রেন বন্ধে সংসার চলছে না। এবার তো না খেতে পেয়ে মরতে হবে।’ রিনা মণ্ডল নামে আরএক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘সব কিছু খুলে যাচ্ছে আর গরিব মানুষের যাতায়াতের জন্য ট্রেনটাই শুধু বন্ধ।’
লোকাল ট্রেন বন্ধ করা নিয়ে অনেক দিন ধরেই নানা মহল থেকে ক্ষোভ উঠে আসছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়। অন্য সমস্ত কিছু যখন খুলে যাচ্ছে তখন কেন গরিব মানুষের যাতায়াতের কথা ভাবা হবে না, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। অনেকে এও লেখেন যে, লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনগুলো শুধু পিছনের বগিগুলো টানে না, লক্ষ লক্ষ সংসারকে টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু ট্রেনে ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই বিশেষজ্ঞরা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ লোকাল ট্রেন চালু হলে দূরত্ব বিধি কোনও ভাবেই মানা সম্ভব হয় না। যাত্রীদের বক্তব্য, ভিড়ের কারণ দেখিয়ে ট্রেন বন্ধ না করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ালেই দূরত্ব বিধি বজায় রাখা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে শিয়ালদহের ডিআরএম এসপি সিং জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের অনুমতি পেলেই ট্রেন চলবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top