অসহায় করোনা আক্রান্তদের ত্রাতা মাস্টার মশাই জানে আলম

ALAM-MASTER.jpg

এ ভাবেই পিপিই কিট পরে আক্রান্তদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন শিক্ষক শেখ জানে আলম

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনার জেরে এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল। কিন্তু শিক্ষকদের বেতন তো বন্ধ হয়নি এক মাসের জন্যও! সেটা মেনে নিতে পারেননি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের স্কুল শিক্ষক শেখ জানে আলম। তাই নিজের বেতনের টাকা খরচ করেই করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নিজের বেতনের টাকায় ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী কিনে তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন এলাকার করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে। স্কুলশিক্ষকের মানবিক ভূমিকায় খুশি সকলে। বাড়ির লোকও সমর্থন করছেন জানে আলমকে।

দূরত্ববিধি বজায় রেখে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যের বাড়িয়ে দেওয়া পাত্রে দুধ-সহ অন্যান্য খাবার ঢেলে দিচ্ছেন শিক্ষক

ভাতারের রাধানগর গ্রামে বাড়ি বড়বেলুনের বড়কালী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের। শিক্ষক হিসাবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কোভিডে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি।
রাধানগর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ‘কোনও পরিবারের কারও কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ শুনলে ভয়ে তাঁদের বাড়ির ত্রিসীমানায় যাচ্ছেন না কেউ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের মানুষজন। অসহায় এই পরিবারগুলির এখন বড় ভরসা জানে আলম। নিজের বেতনের টাকায় ওষুধপত্র, দুধ, ডিম-সহ নানা পুষ্টিকর খাবার কিনে তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন আক্রান্তদের বাড়িতে।’
জানে আলম বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল। অথচ আমাদের বেতনটা ঠিক সময়মতো হাতে আসছিল। এটা ঠিক মেনে নিতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, অতিমারীর সময়ে যদি শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবি, তা হলে সমাজের কী হবে? সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। মানুষের আশীর্বাদই আমারে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। আল্লাহ সবাইকে এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন, এই প্রার্থনা করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top