ফল প্রকাশের পর রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক হিংসার বলি ১৪

KHUN.jpg

পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় মৃত তৃণমূল কর্মী গণেশ মালিক ও জামালপুরে মৃত বিজেপি কর্মী কাকলি ক্ষেত্রপাল

Onlooker desk: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে অশান্তি শুরু হয়েছে। মারধর থেকে শুরু বাড়ি বা পার্টি অফিস ভাঙচুর, বাদ যায়নি কিছুই। সোমবার রাত পর্যন্ত গোটা রাজ্যে মোট ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমানের রায়না ও জামালপুরে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু জেলা নয়, রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়েছে শহর কলকাতাও। কাঁকুড়গাছিতে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নদিয়া, বীরভূম, হুগলি, কোচবিহার, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে খুনের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ অন্যান্য নেতারা। এমনকী তৃণমূলের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বুধবার দেশব্যাপী ধরনার ডাক দিয়েছে বিজেপি। তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এদিন। পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীও যে খুন হয়েছেন, সে কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিনি। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘বিজেপি বাড়াবাড়িও করছে।’

এদিকে রাজ্যপালও এদিন ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ নিয়ে টুইটও করেন তিনি। পুরো বিষয়টি নজরে রাখছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও। হিংসার অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যে ৯ মে পর্যন্ত ১০২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

কাঁকুড়গাছিতে অভিজিৎ সরকার নামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। কলকাতা লাগোয়া সোনারপুরে বিজেপিকর্মী হারাণ অধিকারীর মৃত্যু হয়েছে। জগদ্দলে শোভারানি মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীর মাকে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কদম্বগাছি এলাকায় বোমাবাজিতে এক আইএসএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ভোটের পর এদিন ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শীতলখুচি। সেখানে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে মানিক মিত্র নামে এক বিজেপি কর্মীর। দিনহাটাতেও এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় এক তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

তবে সব থেকে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে। এখানে মৃত চার জনের নাম গণেশ মালিক(৬০), কাকলি ক্ষেত্রপাল(৪৭), শাজাহান শা ওরফে সাজু(৩০) ও বিভাস বাগ ওরফে বিনোদ (২৭)। গণেশের বাড়ি রায়না থানার সমসপুরে। বাকিরা জামালপুরের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ভোটের ফল ঘোষণার পর রবিবার রাতে সমসপুরে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে বচসা বাধে । তা দেখে থামাতে যান তৃণমূল কর্মী গণেশ। তখন তাঁর মাথায় কেউ বাঁশ দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর জখম হন। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে রায়না থানার পুলিশ। অন্যদিকে সোমবার বেলা থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে জামালপুরের নবগ্রামের ষষ্ঠীতলা ও ওড়িশা পাড়ায়। জামালপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খান জানিয়েছেন, দলের কয়েক জন কর্মী নবগ্রাম থেকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে ফিরছিল। ওড়িশাপাড়ার কাছে সশস্ত্র বিজেপি কর্মীরা তাঁদের উপরে হামলা চালায়। এখানে দু’পক্ষের গন্ডগোলে এক তৃণমূল কর্মী ও বিজেপির দুই কর্মীর মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top