৭৬-এর ছেলের মৃত্যু শোকে কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলে ৯৪-এর মা

mother-dies-two-hours-after-son.jpg

ছেলের মৃত্যুর দু’ঘণ্টা পরেই মৃত্যু হল মায়ের

বর্ধমান: ছেলে মারা যাওয়ায় শোকে একই দিনে মৃত্যু হল মায়ের। রবিবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার আবুজহাটি-২ পঞ্চায়েতের চক গ্রামে। মৃতরা হলেন ছেলে অম্বুজাক্ষ চট্টোপাধ্যায়(৭৬) ও মা বিশ্বেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়(৯৪)। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হতেই চক গ্রামের বাসিন্দা মহলে শোকের ছায়া। দুপুরে গ্রামের শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় সৎকার করা হয় মা ও ছেলের মৃতদেহ।
আবুজহাটির কুলিনগ্রাম সংলগ্ন চক গ্রামে বসবাস চট্টোপাধ্যায় পরিবারের। গ্রামবাসী মৃত্যুঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অম্বুজাক্ষ চট্টোপাধ্যায় এক সময় মুহুরির কাজ করতেন। তাতে সামান্য যেটুকু রোজগার হত তা দিয়েই তিনি সংসার চালাতেন। অম্মুজাক্ষর ছেলে মুকুল ও স্ত্রী আল্পনা মানসিক ভাবে সুস্থ নন। গত বছর লকডাউনের পর থেকে অম্বুজাক্ষর মুহুরির কাজও প্রায় ছিল না। বর্তমানে উনি এবং ওঁর মায়ের বৃদ্ধ ভাতার যে সামান্য টাকা পেতেন, তা দিয়েই কোনও রকমে দিন গুজরান হত। ইদানিং বয়সজনিত কারণে মা-ছেলে দু’জনের অসুস্থ ছিলেন। আজ প্রথমে ছেলের মৃত্যু হয়। সেই শোকেই ঘণ্টা দুয়েকের ব্যবধানে মারা যান তাঁর মা।’
অম্বুজাক্ষর এক ভাই হুগলির গুড়াপে ও আরএক ভাই চক গ্রামেই আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন। মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ‘আর্থিক অনটনের কারণে মা ও ছেলে কেউই তাঁদের শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসাটুকু করাতে পারছিলেন না। সামান্য বৃদ্ধ ভাতা এবং পরিজন যেটুকু সাহায্য করত তা দিয়েই দু’বেলা দু’মুঠো জুটতো।’ এদিন পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় গ্রামের শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় মা ও ছেলের দেহ সৎকার করা হয়। গ্রামবাসীরা জানান, অম্বুজাক্ষর স্ত্রী ও ছেলের আগামী দিন কী ভাবে চলবে সেটাই চিন্তার। মৃতদের পারলৌকিক কাজকর্ম করার মতো আর্থিক সামর্থটুকুও পরিবারের নেই। এই অবস্থায় ব্রাহ্মণ পরিবারটির জন্যে সকলের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন চক গ্রামের বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top