স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগী ভর্তির পরে মোটা টাকা দাবি, নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

IMG-20210604-WA0004.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়ে রোগীকে ভর্তি করার পরেও ৪৩ হাজার টাকা মেটানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল রোগীর পরিবারকে। এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশ নড়েচড়ে বসতেই ভোল বদলায় বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার একটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার টাকায় ‘রফা’ করে তাঁরা রোগীকে বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র দেন।
রোগী পরিবারের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে বেজায় চটেছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা। গোটা ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর পরিবার কারও উস্কানিতে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারির রাধাকান্তপুরের বাসিন্দা বছর ৫২-র তরু ক্ষেত্রপাল গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জখম হন।পরিবারের লোকজন তাঁকে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স চালক রোগীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে নবাবহাট এলাকার ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করে দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। সেখানে রোগীর চিকিৎসা হলেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ মোটা টাকা দাবি করায় অশান্তি শুরু হয়।
তরু ক্ষেত্রপালের মেয়ে অরুন্ধতী দাসের অভিযোগ , স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড দেখে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁর বাবাকে ভর্তি নিয়েছিলেন। অথচ এদিন রোগীকে ছাড়ার সময় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁদের কাছে ৪৩ হাজারের বেশি টাকা দাবি করেন। এতেই দরিদ্র ওই পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। অভিযোগ, তাঁরা টাকা দিতে পারবেন না বলে জানালে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ মানতে চাননি। এ নিয়ে চেঁচামেচি শুরু হলে বর্ধমান থানার পুলিশ আসে। তার পরেই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ৪৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকায় নেমে আসে।
রোগীর ছেলে বসন ক্ষেত্রপাল বলেন, ’স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বাবাকে ভর্তি করার পরেও যে ভাবে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ৫ হাজার টাকা আদায় করল, সেটাও অন্যায়।’ বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নার্সিংহোমের এক কর্তা চিকিৎসক কৌশিক দাস বলেন, ‘ওই রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। চিকিৎসা বাবদ ৪৩ হাজার টাকা বিল হয়। ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন রোগীর পরিজন। আর আমাদের নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করার অনুমতি পায়নি। কেউ উস্কানি দিয়ে এই সব মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছে।’ সিএমওএইচ প্রণব রায় বলেন , ‘আমার কাছে এখনও অভিযোগ আসেনি । অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top