জন্মের পরপরই করোনায় আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ করে তুললেন চিকিৎসক-নার্সরা

IMG-20210615-WA0001.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: জন্মের দু’দিনের মাথায় কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিল শিশুটি। ওইটুকু শরীরে মারণরোগ কী ক্ষতি করে, শেষ পর্যন্ত ভাগ্যে কী আছে, সে সব চিন্তায় ঘুম উড়ে গিয়েছিল বাবা-মায়ের। কিন্তু চিকিৎসক-নার্সরা হাল ছাড়েননি। ২৪ দিনের মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ করে তুলেছেন তাঁরা। বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একরত্তিকে। কোনও নামী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নয়। এই সাফল্য এসেছে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসক-নার্সরা যে বেশ কঠিন একটি কাজ করে দেখিয়েছেন, সে কথা মানছেন সকলে। সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
করোনায় আক্রান্ত হওয়া ওই শিশুর পরিবার আদতে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা। তার বাবা সুজিত ঘোষ জানান, জন্মের পরেই তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় সন্তানের। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। সদ্যোজাতকে সেই কারণে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়। কিন্তু তাতেও বিশেষ সাড়া মিলছিল না। এরপর ভেন্টিলেশনে রাখার জন্য সদ্যোজাত সন্তানকে তাঁরা নিয়ে যান কলকাতায়। সেখানে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ঘোরেন। কিন্তু কোথাও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে পারেননি। কলকাতা থেকে বর্ধমানে পৌঁছে যান তাঁরা। সেখানে ওই বেসরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। ততক্ষণে শিশুটির অবস্থা বেশ সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছে। বলা হয়, রাজ্যের বহু হাসপাতাল ‘রেফার রোগে’ আক্রান্ত। কিন্তু বর্ধমান শহরের ওই বেসরকারি হাসপাতাল তা করেনি। বরং অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শিশুটিকে ভর্তি করে তারা। প্রাণপণ চেষ্টা করে তাকে সারিয়ে তোলেন চিকিৎসক-নার্সরা। সোমবার সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পান সুজিতরা।
কিন্তু কী হয়েছিল শিশুটির? বেসরকারি ওই হাসপাতালের অধিকর্তা, চিকিৎসক আশরাফুল আলম মির্জা জানান, ভেন্টিলেটর অ্যাম্বুল্যান্সে করে শিশুটিকে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা তাঁরাই করে দিয়েছিলেন। শিশুটির করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে বড় ধরনের সংক্রমণের হদিস মেলে। সদ্যোজাতের ফুসফুসের অবস্থাও খুব খারাপ ছিল। সেই কারণে তাকে হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিয়ে রাখতে হয়। এতকিছুতেও ভোগান্তি শেষ হয়নি। পাশাপাশি শিশুটির প্রেশারও খুব কমে গিয়েছিল। সদ্যোজাতদের মধ্যে করোনার এতখানি সংক্রমণ সচরাচর নজরে পড়ে না। অধিকর্তা আশরাফুল বলেন, ‘এমন কোভিড সংক্রমণের সমস্যা সাধারণত সদ্যোজাতদের মধ্যে দেখা যায় না। কিন্তু এই শিশুটির ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছিল।’ তার মায়ের শরীরেও কোভিড সংক্রমণের হদিস মেলে। তিনিও এখন সুস্থ আছেন। চিকিৎসার নানা ধাপ পেরিয়ে অবশেষে শিশুটিকে করোনামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসায় এটি বড় সাফল্য মনে করছেন হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top