করোনা-ইয়াসে বিপর্যস্ত ব্রাহ্মণ পরিবারকে নগদ, খাদ্য দিয়ে সাহায্য মুসলিম বধূর

IMG-20210531-WA0002.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: তীব্র মেরুকরণকে সমাজের শিকড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা যে সাধারণ মানুষ নস্যাৎই করবেন, সেটাই যেন আরও একবার দেখিয়ে দিলেন ফজিলা বেগম।
করোনাকালে পূর্ব বর্ধমানের গলসির গলিগ্রামের এক গৃহহীন অসহায় দরিদ্র ব্রাহ্মণ পূজারির অস্থায়ী আস্তানায় পৌঁছে তাঁদের হাতে ডাল-ডাল-আনাজপাতির পাশাপাশি কিছু নগদ অর্থও তুলে দিলেন মুসলিম পরিবারের ওই বধূ। পূজারি ত্রিপুরারি মুখোপাধ্যায় ও স্ত্রী আশার পাশে দাঁড়িয়ে ফজিলা যা করলেন, তা শুধুন মানবিকই নয়। নানা ইস্যুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন জাত-ধর্ম-সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভাগাভাগি চরমে, তেমন এক সময়ে সম্প্রীতির স্নিগ্ধ নিদর্শন বলেও মনে করছেন গলসিবাসী।
গলসির গলিগ্রামে ত্রিপুরারির মাটির দেওয়াল আর খড়ের চালের বাড়িটি গত বছর ‘আমফান’-এ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছর ‘ইয়াসে’র সেটা বাসের অযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ত্রিপুরারি।
যজমানি ও পুজো অর্চনা করে যেটুকু প্রণামি, চাল, আলু মেলে তা দিয়েই পূজারির পরিবারের দিন গুজরান। কিন্তু এখন সেটুকুও প্রায় বন্ধ। ত্রিপুরারির অবস্থা, অনির্বচনীয়।
পরিবারটির এই দুর্দশার কথা জানতে পারেন গলসির রাইপুরের বাসিন্দা জাহির আব্বাস মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী ফজিলা। স্থির করেন, ব্রাহ্মণ পূজারির পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। রবিবার চাল, ডাল, তেল, সাবান, আলু, পেঁয়াজ, আলাজপাতি নিয়ে ত্রিপুরারির অস্থায়ী ঠিকানায় পৌঁছে যান ফজিলা। যজমানি সারতে বেরিয়েছিলেন পুরুতমশাই। পূজারির স্ত্রী আশার হাতে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেন ফজিলা।
আশাদেবী, ‘ফজিলা আমাদের কাছে ঈশ্বের দূতের মতো। তিনি এ দিন যে ভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তা ভোলার নয়। সারা জীবন ওঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।’ আর ফজিলার কথায়, ‘পরিবারটির কথা জেনে আমার ও আমার স্বামীর খুব কষ্ট হয়েছিল। তাই নিজেদের তাগিদেই এ দিন ওঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, ওঁরা যেন ভালো থাকেন। ওঁদের দুঃখ কষ্ট যেন দূর হয়ে যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top