আত্মহত্যা করেছিলেন এমএ পাশ ‘চোরের’ শিক্ষিকা মা, কেন জানেন?

IMG-20210622-WA0002.jpg

আসানসোল ও হাওড়া: একাধিক চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে হাওড়া পুলিশের জালে আসানসোলের মেধাবী ছাত্র সৌমাল্য চৌধুরী। ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাশ করা যুবকের এমন ‘কীর্তি’ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে হইচই। তবে এইটুকু তথ্যে অবাক হওয়ার অনেক বাকি। কারণ এর আগেও আসানসোলে চুরির ঘটনায় সৌমাল্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আর সেই ঘটনা মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন সৌমাল্যর মা, সরকারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুলের শিক্ষিকা মধুছন্দা চৌধুরী। তার পরেও ছেলের স্বভাব না বদলানোয় হতবাক আসানসোলের প্রতিবেশীরা। তবে ছেলেকে বার বার ফাঁসানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সৌমাল্যর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পিডব্লিউডি-র সুপারভাইজার সলিল চৌধুরী। যদিও ছেলে সত্যিই অপরাধ করে থাকলে সাজা পাক, চাইছেন সলিল।
ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন সৌমাল্য। ইংরেজিতে অনার্স করার পর ২০১৫ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেন। ২০১৯ সালে আসানসোল শহরে একাধিক ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে সেই সময় সৌমাল্যকে গ্রেপ্তার করেছিল আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। তার পর ফের চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধ সলিল। তবে তাঁর দাবি, ছেলেকে প্রথম থেকেই তার বন্ধুরা ফাঁসিয়ে দিয়ে আসছে। এলাকারই বাসিন্দা দুই যুবকের খপ্পড়ে পড়ে ছেলে এই ধরনের কাজ করতে শুরু করে। এমনকী তিনি জানান, ছেলের এই কৃতকর্মের জন্য মানসিক চাপ নিতে না পেরে প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার দু’দিন পরেই স্ত্রী আত্মঘাতী হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন সাঁকরাইলের দুইল্যা এলাকার একটি বাড়িতে চুরি হয়। ১০ ভরি সোনার গয়না হাতিয়ে স্কুটারে চেপে পালায় চোর। সেই স্কুটারের নম্বর পায় পুলিশ। নম্বরের সূত্রে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে ধরা হয় সৌমাল্যকে। সঙ্গে শাগরেদ প্রকাশ শাসমল। মাধব সামন্ত নামে যিনি গয়না কিনেছিলেন, ধরা হয় তাঁকেও। ১০ লক্ষেরও বেশি টাকার সোনার হয়না উদ্ধার হয় তাদের কাছ থেকে।
আসানসোলের বার্নপুর রোডের কোড মোড়ের একটি আবাসনের বাসিন্দা সলিল। মধুছন্দা ছিলেন বার্নপুরের একটি সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষিকা। তাঁদের সন্তান ফের গ্রেপ্তার হয়েছে শুনে এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা অবাকই হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশীর বক্তব্য, পড়াশোনায় ভালো ছেলে বলেই জেনে এসেছি। তবে পাকেচক্রে কেউ কোনও ঘটনায় জড়িয়ে পড়তেই পারে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পরেও এমন ভালো পরিবারের শিক্ষিত যুবক ফের চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারে এটা ভাবাই যাচ্ছে না। সোমবার ঘরে ঝোলানো ছেলের ছবির সামনে বসেই সলিল জানান, মধুছন্দা তাঁর ছেলেকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়ে রেখেছিলেন। ফলে সৌমাল্যই ব্যাঙ্কের সব হিসেব রাখতেন। পরে কিছু স্থানীয় ছেলেদের খপ্পড়ে পড়ে ভুল পথে চালিত হতে শুরু করেন। সলিলের অভিযোগ, খুনের হুমকি দিয়ে ব্যাঙ্কের সব টাকাও হাতিয়ে নেয় ওই যুবকরা। দুই বন্ধু মিলে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকী গাড়ি, বাড়ির দলিলও নিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। সলিল বলেন, ‘এক সময় মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় চাকরি পেয়েছে বলে ছেলে আমাকে জানায়। সেই মতো আমি ওকে সেখানে পৌঁছে দিই। তারপর এমন সব ঘটনা। কোনটা সত্যি বুঝতে পারছি না।’ এর পর কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আজ আমি নিঃস্ব।’ তবে ছেলে সত্যিই এমন কিছু করে থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তির কথা বলেছেন এই বৃদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top