বর্ধমানে অভিনেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার চাকদার নিখোঁজ বধূ

Bardhaman.jpg

স্ত্রীকে উদ্ধারের পর কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন স্বামী

বর্ধমান: পুলিশের তৎপরতায় টলিউডের এক অভিনেতার বর্ধমানের (Bardhaman) বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ছ’মাস ধরে নিখোঁজ থাকা নদিয়ার চাকদার গৃহবধূ। মঙ্গলবার ভোররাতে চাকদা ও বর্ধমান থানার পুলিশ নিখোঁজ মহিলার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান শহরের বাদামতলায় অভিনেতা ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় চাকদার নিখোঁজ বধূ।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও ওই মহিলা বা তাঁর স্বামী গোটা ঘটনা নিয়ে কাউকে দায়ী করে কিছু বলেননি। শুধু তাঁকে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন। কিন্তু কী ভাবে তিনি চাকদা থেকে অভিনেতার বর্ধমানের বাড়িতে এলেন তা ঘিরে রহস্য দেখা গিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী বেশ কিছু দিন ধরেই বাতের রোগে ভুগছেন। রোগ যন্ত্রণায় তিনি মানসিক ভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন। ৬ মাস ১০ দিন আগে একটি চিঠি লিখে হঠাৎ নিঁখোজ হয়ে যান স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর চাকদা থানায় ডায়েরি করেছিলাম। এরই মধ্যে সোমবার স্ত্রী অন্য এক মহিলার ফোন থেকে গোপনে আমাকে ফোন করে। জানায়, দু’জন লোক তাকে বর্ধমানের (Bardhaman) এক অভিনেতার ফাঁকা বাড়িতে তুলে এনে আটকে রেখেছে। সেখানে কিছু সন্দেহজনক লোক থাকে। তাদের আচরণে সন্দেহ হয়। ওকে বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে।’
ফোনে এমন কথা জানার পর চাকদহ থানার দ্বারস্থ হন মহিলার স্বামী। এর পর চাকদহ এবং বর্ধমান (Bardhaman) থানার পুলিশ যৌথ ভাবে ওই টলি অভিনেতার বর্ধমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে। মহিলা অসুস্থ থাকায় তাঁকে কোলে করে তুলে তাঁর স্বামীই পুলিশের গাড়িতে তোলেন। পরে চাকদহ থানার পুলিশ তাঁদের নিয়ে রওনা দেয়।
এ বিষয়ে অভিনেতা ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মহিলাকে আটকে রাখার কথা মানতে চাননি। ফাল্গুনী বলেন, ‘মাস তিনেক আগে সোমনাথ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি ওই মহিলাকে আনেন। সোমনাথ টেলিফিল্মে বিজ্ঞাপনও দিয়েছিল। সোমনাথ ও ওই মহিলা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়। সোমনাথ জানিয়েছিল, তার ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ব্যবসা রয়েছে। ভোটার কার্ড দিয়ে সোমনাথ বলেছিল, লকডাউনে কোথাও সে থাকার জায়গা পাচ্ছে না। মাস দুয়েক সে আমার বাড়িতে থাকবে। সেই কথা বিশ্বাস করে বিনা ভাড়াতেই ওদের থাকতে দিয়েছিলাম। স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া ওই মহিলাকে দেখভালের জন্য সোমনাথ একজন মহিলাকে কাজে রেখেছিল। আর নিজে মাঝে মধ্যে আসত। এদিন সব জানার পর আমিও অবাক হয়ে গিয়েছি। ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়ে আমি সোমনাথকে ফোন করেছিলাম। তার পর থেকে ও ফোন বন্ধ করে দেয়।’
বর্ধমান (Bardhaman) থানার আইসি সুখময় চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা চাকদা থানার কেস। চাকদা থানার পুলিশ বর্ধমান থানার সাহায্য চেয়েছিল মহিলাকে উদ্ধারের জন্য। বর্ধমানার পুলিশ সাহায্য করেছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top