তৃণমূলে ‘বীতশ্রদ্ধ’, গণহত‍্যা স্মরণে তৈরি শহিদ বেদি ভাঙলেন সেই কেশ পরিবারেরই সদস্য

IMG-20210702-WA0012.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বাম আমলে কেশবাড়ি গণহত্যার স্মরণে তৈরি হয়েছিল ‘শহিদ বেদি’। তা ভেঙে দিলেন ওই শহিদ পরিবারেই সদস্য অনন্ত কেশ। শুক্রবার কেশবাড়ি গণহত্যার দিনে এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যান পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বেলারি গ্রামের বাসিন্দারা। বেদি ভেঙে এ দিন তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অনন্ত। তা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলেও তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আউশগ্রামের বেলারি গ্রামের কেশ পরিবারের সদস্য কমলাকান্ত কেশ ছিলেন কংগ্রেস নেতা। পরিবারের অভিযোগ, ১৯৮৫ সালের ২ জুলাই সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরা কমলাকান্তর বাড়ি ঘেরাও করে। অভিযোগ, কমলাকান্ত ও তাঁর দুই দাদা অশোক এবং অসীম কেশকে পিটিয়ে, কুপিয়ে হত্যা করে তারা। সে দিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন বাড়ির ছোট ছেলে অনন্ত কেশ।
এই গণহত্যার স্মরণে পরে বেলারি গ্রামে বিল্বগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে তৈরি হয় একটি শহিদ বেদি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে প্রতি বছর ২ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো।
সেই শহিদ বেদিই এ দিন শাবল দিয়ে ভেঙে দেন অনন্ত।
কিন্তু কেন? অনন্ত জানান, তাঁদের পাড়ায় সরকারি জায়গায় নিকাশি নালাগুলি বুজিয়ে ঘর তৈরি করেছে কয়েকজন। সে কারণে নালা সংস্কার করা যাচ্ছে না। অথচ এলাকার তৃণমূল নেতাদের মদতে জোর করে তাঁদের জায়গার উপর দিয়ে নালা কেটে নিকাশির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনন্ত জানান, এ সব নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন বলে তাঁকে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েও তিনি সুবিচার পান নি বলে অভিযোগ।
অনন্ত আরও বলেন, ‘বর্তমান শাসকদল এক সময়ে আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতিই রাখেনি। তা হলে শুধু লোক দেখানো শহিদস্মরণ করে কী লাভ! আর কেশ পরিবারের নিহতদের নামে শহিদ বেদি রেখেই বা কী লাভ! তাই বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওই বেদি ভেঙে দিয়েছি।’
অনন্ত কেশের তোলা এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিল্বগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফাল্গুনী গোস্বামী বলেন, ‘এই ঘটনার নিন্দা করছি। দলের পক্ষ থেকে অনন্ত কেশকে পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। দল কেশ পরিবারের সদস্যদের যথার্থ সম্মান দিয়েছে। অনন্ত মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব। ঠিক কী কারণে কেশ পরিবারের ওই সদস্য বীতশ্রদ্ধ তা জানি না। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেশ পরিবারকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে চলেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top