পুলিশের অফিসারের ভুয়ো পরিচয়ে তৃণমূল নেতার টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে যুবক

BHATAR-ARREST.jpg

ধৃত যুবক

বর্ধমান: পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে ফোন করে তৃণমূল নেতার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল এক যুবক। ধৃতের নাম আব্দুর রহিম মণ্ডল। বছর ২৬-এর এই যুবকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থানার ট্যাংরা এলাকায়। অশোকনগর থানার পুলিশের সহযোগিতায় পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ সোমবার রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ তিন দিন হেফাজতে নিয়েছে। প্রতারণা চক্রে আর কারা যুক্ত রয়েছে তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার ভাতারের ওড়গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূল নেতা মহম্মদ হোসেনের মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে থানার মেজবাবু পরিচয় দিয়ে প্রথমে এলাকার একটি ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলেন। এর কিছুক্ষণ বিপদের কথা বলে নেতার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা সাহায্য চান পুলিশ অফিসার পরিচয় দেওয়া ওই যুবক। জরুরি প্রয়োজন থাকায় ফোন পে-র মাধ্যমে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। মানুষ বিপদে পড়েছেন শুনে টাকা জোগাড় করতে বেরিয়ে পড়েন মহম্মদ হোসেন। এর মধ্যে অন্য একটি নম্বর থেকে মেজবাবুর ছেলে পরিচয় দিয়ে ১০ হাজারের পরিবর্তে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে তৃণমূল নেতা ভাবেন, পারিবারিক কোনও কারণে হয়তো খুবই অসুবিধায় পড়ে টাকা চাইছেন ওই পুলিশ অফিসার। সেই মতো সরল বিশ্বাসে টাকা পাঠিয়েও দেন। এর ঘণ্টা খানেক পর ফের ফোন করে বলা হয়, সমস্যা মিটে গিয়েছে তাই টাকা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু পরে আর টাকা ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় ওড়গ্রাম ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এর পর ফোন কলের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে ভাতার থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, এই প্রতারণার ঘটনায় ধৃতের দাদাও জড়িত। তবে পুলিশ বাড়িতে হানা দেওয়ার আগেই সে চম্পট দেয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, কয়েক দিন আগে একই ভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভাতার পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান পরেশনাথ চক্রবর্তীর আত্মীয় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর কাছ থেকে ফোন পে-র মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই যুবক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top