তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি খুনের ঘটনায় এ বার সিআইডির জালে লিঙ্কম্যান

Mangalkot-TMC-leader-murder.jpg

বর্ধমান: তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে খুনের ঘটনায় এ বার এক লিঙ্কম্যানকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি অসীম দাসকে খুনের ঘটনায় ধৃত লিঙ্কম্যানের নাম রিপন শেখ। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের সীতাহাটি গ্রামে। সিআইডি সূত্রে খবর, বর্ধমান স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে ভিন রাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা কষেছিল রিপন। সেই খবর পেয়ে সিআইডি দল শনিবার রাতে বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন নবাবহাট এলাকা থেকে রিপন শেখকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক ধৃতকে আট দিনের সিআইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোটের সিউর গ্রামের বাসিন্দা লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি অসীম দাস। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্থানীয় কাসেমনগর বাজার থেকে বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি করে তাঁকে খুন করে। প্রথমে সিট গঠন করে পুলিশ এই খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও পরে রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয় সিআইডি। এর পর সিআইডি জালে একের পর এক ধরা পড়ে দুষ্কৃতী সাবুল শেখ, সামু শেখ ও রফিকুল শেখ। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি কর্তারা জানতে পারেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে খুনের মাস্টার মাইন্ড বালি মাফিয়া রাজু শেখের নাম।
এই রাজুর আদি বাড়ি বীরভূম জেলার নানুর থানা এলাকার সিদাই গ্রামে। তবে গত চার বছর ধরে সে মঙ্গলকোটের মল্লিকপুর গ্রামে থেকে অবৈধ বালির কারবার চালাচ্ছিল। এদিকে অবৈধ বালির কারবারে বাধা দেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অসীম দাস। অভিযোগ, সেই বাধা সরিয়ে ফেলতে সুপারি কিলার সুপারি কিলার নিয়োগ করে অসীমকে খুন করে রাজু। তার পর থেকেই গা ঢাকা দেয় রাজু। দিন কয়েক আগে সিআইডি দিল্লি থেকে শেখ রাজুকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে মঙ্গলকোটে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি সুপারি কিলার শেখ বাবলুর হদিশ পায়। কয়েক দিন আগে শেখ বাবলুকে গ্রেপ্তারও করে সিআইডি। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ লিঙ্কম্যান রিপন শেখের নাম জানতে পারে। শনিবার রাতে রিপনও ধরা পড়ে সিআইডির জালে।
সিআইডি সূত্রে খবর, অসীম দাসকে খুনের ঘটনায় মূল লিঙ্কম্যান হিসেবে কাজ করেছিল এই রিপন শেখ। সে খুনের কাজে শুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া ও অসীম দাসের গতিবিধির ওপর নজর রাখার দায়িত্বও পালন করেছিল। খুনের ঘটনার মূল চক্রী শেখ রাজুর ডান হাত হিসেবে রিপন শেখ কাজ করত বলে জানতে পেরেছেন সিআইডি কর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top