শহিদ দিবস পালন করেন নেতারা, আর বিচারের আশায় দিন গোনেন নিহত তৃণমূলকর্মীর মা

mother-awaits-justice-for-murdered-son.jpg

নিহত দলীয় কর্মী ফিরদৌস রহমানের স্মরণে তৃণমূল নেতারা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বিরোধী রাজনীতি করতে গিয়ে বাম আমলে খুন হয়েছিলেন। পঞ্চায়েত ভোটের ফল ঘোষণার পরের দিন টাঙি ও কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর ১১ জনের বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়ার পর চার জন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। রাজ্যে পালা বদলের পর পরিবারের আশা ছিল, এ বার হয়তো খুনিরা শাস্তি পাবে। কিন্তু কোথায় কী! ফি বছর দলের নেতারা ৩১ মে-র সেই ঘটনাকে স্মরণ করে শহিদ দিবস পালন করেন। কিন্তু খুনের বিচার কোথায়, প্রশ্ন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জাড়গ্রাম পঞ্চায়েতের মরাবাঁধ গ্রামের ফিরদৌস রহমান ওরফে বোটনের পরিবারের।
১৯৯৮ সালের ৩১ মে পঞ্চায়েত ভোটের ফল ঘোষণার পরদিন খুন হন তৃণমূল কর্মী ফিরদৌস রহমান। তার পর থেকে পেরিয়ে গিয়েছে ২৩টা বছর। কিন্তু ফিরদৌসের খুনিদের কারও সাজা আজও হয়নি। এদিকে ফি বছর ৩১ মে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা ঘটা করে দিনটি স্মরণ করেন। কিন্তু শহিদের পরিবার কী চান? তাঁদের বক্তব্য, দল ক্ষমতায় এসেছে অনেক দিন হয়ে গেল। এ বার অন্তত খুনিদের সাজার ব্যবস্থা করুক। নিহত তৃণমূলকর্মীর মা বলেন, ‘আমার কোল যারা খালি করেছে তাদের আজও কোনও শাস্তি হল না। জানি না সেই দিন কোনও দিন আসবে কি না।’
ফিরদৌস রহমান খুন হওয়ার পর জাড়গ্রামের মরাবাঁধে তৈরি করা হয়েছিল শহিদ বেদি। বছরের এই নির্দিষ্ট দিনে ফুল-মালা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় সেই বেদি। এবার সেই বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন জামালপুরের বিধায়ক অলোক মাঝি, ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খান, যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিক-সহ এক ঝাঁক নেতা-নেত্রী। মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নেতারা শহিদ বেদির সামনে দাঁড়িয়ে ৯৮ সালের সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতিচারণও করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা কেন আজও শাস্তি পেলেন না, তার উত্তর কেউই দিতে পারলেন না। সবাই আইনের যাঁতাকলের দোহাই দিয়ে পাশ কাটালেন। তবে নেতাদের আড়ালে জাড়গ্রামের পুরোনো কয়েক জন তৃণমূল কর্মী এদিন বলেন, ‘কে কাকে শাস্তি দেবে। সেদিন যারা তৃণমূল কর্মীদের পেটাতো, এলাকায় সন্ত্রাস চালাতো, তারা সবাই এখন তৃণমূলে ভিড়ে গিয়েছে। তাই ফিরদৌসের খুনিদের বিচার আর কোনও কালেই হবে না।’
নিহত ফিরদৌসের বৃদ্ধা মা জাহানারা পুরকাইত এদিন বলেন, ‘ছেলের খুনিদের বিচার উপরওয়ালাই করবেন। এখন মনে মনে প্রতিদিন এটাই প্রার্থনা করি।’ ফিরদৌসের দাদা জাহাঙ্গির রহমান এদিন বলেন, ‘ভাই খুন হওয়ার পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জামালপুরে এসেছিলেন। সভাও করেছিলেন। পরিবারের কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে রেলে চাকরি করে দেন। কিন্তু আক্ষেপ একটাই, ভাইয়ের খুনিরা কেউ শাস্তি পেল না।’ বিষয়টি নিয়ে ফের তৃণমূল নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান ফিরদৌসের মা ও দাদা।
এ প্রসঙ্গে জামালপুর ব্লক তৃণমূলে সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘খুনের মামলায় যাঁরা সাক্ষী ছিলেন, তাঁদের অনেকে মারা যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। বর্ধমান আদালতে মামলা চলাকালীন অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে গিয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে এই মামলার নিষ্পত্তির কোনও বিধান আছে কি না সেই বিষয়টি নিয় রাজ্য নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top