লাল ঝান্ডা পুঁতে তৃণমূল নেতার জমি দখল, অভিযুক্ত দলেরই নেত্রী

Land-of-TMC-leader-occupied-with-a-red-flag.jpg

জমিতে পোঁতা রয়েছে লাল ঝান্ডা। (ইনসেটে) অভিযোগকারী কাশীনাথ সরকার ও অভিযুক্ত নেত্রী শিখা রায়

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: লাল ঝান্ডা পুঁতে দিয়ে এক তৃণমূল নেতার চাষের জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠল দলেরই এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার চকদিঘি পঞ্চায়েতের পাহাড়পুরে। এ নিয়ে জমি মালিক কাশীনাথ সরকার শুক্রবার তৃণমূল নেত্রী শিখা রায় ও তাঁর ছেলে সুমন্ত রায়ের নামে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা কাশীনাথ এলাকায় তৃণমূল নেতা হিসেবেই পরিচিত। এদিন পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, পাহাড়পুরে জ্যোৎসুবল মৌজায় ৩৩৩ দাগে তাঁর ৬৯ শতক চাষ জমি রয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তাঁর বাবা হরিসাধান সরকার ১৯৪৯ সালে পাহাড়পুরের বাসিন্দা ফকির বাগদির কাছ থেকে কেনেন। ভূমি দপ্তরের রেকর্ডেও জমির মালিক হিসেবে তাঁর বাবার নাম রয়েছে। ওই জমিতে দীর্ঘকাল তাঁরা চাষ করে এসেছেন। বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় ওই ৬৯ শতক চাষ জমি দলিল করে তাঁকে লিখে দিয়ে যান। এখন নিজেকে পাহাড়পুর এলাকার তৃণমূল নেত্রী বলে দাবি করা ফকির বাগদির বৌমা শিখা রায় ও তাঁর ছেলে তাঁর ছেলে সুমন্তকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমির দখল নিয়েছেন। ট্র্যাক্টর নামিয়ে জোরপূর্ব তাঁর জমি চষে দিয়েছেন। প্রথমে জমিতে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ঝান্ডা পুঁতে দেওয়া হয়। পরে ওই জমিতে বেগুন চারা লাগিয়ে তৃণমূলের ঝান্ডা সরিয়ে একটি লাল ঝান্ডা পুঁতে দেন শিখা। থানার পাশাপাশি ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অফিসেও এদিন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কাশীনাথ।
কাশীনাথের দাবি, ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খানের ইন্ধনেই তাঁর জমি দখল করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানাবেন তিনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে শিখা বলেন, ‘আমার শ্বশুরমশাই ফকির বাগদি পাগল ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে অনেকে ওঁর কাছ থেকে জমি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। শ্বশুরমশাই যে পাগল ছিলেন সেই সংক্রান্ত নথি আমার কাছে আছে। ফলে সেই সময় আমার শ্বশুরমশাইয়ের পরিবর্তে অন্য কাউকে ফকির বাগদি সাজিয়ে জমি বিক্রি সংক্রান্ত দলিল করে নেওয়া হতে পারে। সেই কারণেই শ্বশুরের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে আমি আদালতে মামলাও করেছি।’
তবে শিখা জানান, জ্যোৎসুবল মৌজায় ৩৩৩ দাগে কাশীনাথ সরকারের ৬৯ শতক চাষ জমি নিয়ে তিনি মামলা করেননি। কিন্তু কাশীনাথ যেহেতু বারে বারে ১০৭ ও ১৪৪ ধারার নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে হয়রানি করছেন, তাই বদলা নিতেই ৩৩৩ দাগের ওই জমি চষে দিয়ে তিনি বেগুন চারা লাগিয়ে দিয়েছেন। এবং জমিতে তৃণমূলের কোনও ঝান্ডা নয়, একটা লাল কাপড়ের ঝান্ডা লাগিয়ে দিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এদিকে এমন ঘটনার নিন্দা করেছেন চকদিঘি পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান গৌরসুন্দর মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘শিখা রায় যা করছেন, ঠিক করছেন না। উনি যে ভাবে জোরপূর্বক এলাকার লোকজনের সম্পত্তির দখল নিয়ে নিচ্ছেন সেটা আইন বিরুদ্ধ। তা নিয়ে এলাকার মানুষজন ক্ষোভে ফুঁষছেন। উনি যেহেতু আদালতে মামলা করেছেন, তাই আদালতের উপরেই ভরসা রাখা উচিত। ওঁর এমন কাজকর্মে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’ তবে ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে কে কি করছেন সেটা আমার জানার কথা নয়। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কোথাও বেআইনি কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসন তার ব্যবস্থা নেবে।’
এমন ঘটনা সামনে আসতেই কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জিতেন ডকাল। তিনি বলেন, ‘শুধু বিজেপির লোকজনই নন, তৃণমূলের সন্ত্রাসের হাত থেকে তৃণমূলের লোকজনও ছাড় পাচ্ছেন না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top