নিরন্নদের খাবার দিয়ে নিজের উৎসব শুরু করেন আউশগ্রামের লালন

Lalon-of-Ausgram.jpg

ঈদের দিন খাদ্য সামগ্রী বিলিতে তদারকি করছেন লালন

রাধামাধব মণ্ডল
বাংলাদেশের কুষ্টিয়া নয়! নেই কোনও মাজার! তিনি গান গাইতে না পারলেও, বাঁধতে পারেন জীবের প্রেমে, গানের সুরে। তিনি বলেন, ‘প্রেমই মানবধর্মের মূল মন্ত্র।’ আর তিনি জীবনের গান করেন। পুঁথিগত শিক্ষা তেমন নেই। তবে প্রথা ভাঙার জীবনের শিক্ষায় তিনি শিক্ষিত। তিনি আজও শেখেন জীবন ও প্রকৃতির কাছে। পেশা ব্যবসা, নেশা মানুষের পাশে থাকা। পাশে থাকাটাই যাঁর মন্ত্র। তিনি আউশগ্রামের লালন। ইতিমধ্যে নানা ঘটনায় সম্প্রীতির নজির গড়েছেন। পদ্মাপারের ফকির লালন না হলেও, এ যেন পূর্ব বর্ধমানের অজয় পাড়ের অন্য লালন। যিনি জীবনের গান করেন কর্মযজ্ঞের মানবমঞ্চে।
আউশগ্রামের ব্যবসাজীবী, সমাজ সেবক শেখ আব্দুল লালন ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার ও ঈদের দিন বুধবার সারাদিন ধরে সাড়ে আটশো পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন।
খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয় সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষকে। সেই তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি যেমন ছিলেন, ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট জনেরা। তেমনই ছিল সমাজের নিরন্ন মানুষদের একটি দীর্ঘ তালিকাও।
প্রতিটি উৎসবের আগেই শেখ আব্দুল লালন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ছাড়াও জেলার ভাতার, মঙ্গলকোট, কেতুগ্রামের বিভিন্ন গ্রামে, বীরভূম জেলার জয়দেব, কেন্দুলি-সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের হাতে তিনি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।
বকরি ঈদেও তার অন্যথা হয়নি। প্রত্যেক সাহায্যকারীকে তিনি এক কেজি করে খাসির মাংস, লাচ্চা, সিমাই, তেল, নারকেল, কাজু, কিচমিস-সহ নানা রকম খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। তিনি মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য দুর্গা পুজোতেও দুঃস্থদের জন্য খাদ্যসামগ্রী তিনি তুলে দেন। সেই সঙ্গে বহু মানুষকে নতুন জামাকাপড়ও তুলে দেন। এমনকী জেলার ও জেলার বাইরের কয়েক জন কৃতী ছাত্রছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার সমস্ত খরচ বহন করে তাঁর সংস্থা এস এম ডি।
শীতকাল জুড়ে শীতবস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয় এস এম ডি দপ্তর থেকে গরিব মানুষদের। শুধু তাই নয়, বর্ষাকালে ত্রিপল দেওয়া হয় বহু মানুষকে। দীর্ঘ করোনা কালে, লকডাউনে আউশগ্রামের বেশ কয়েক হাজার নিরন্ন মানুষকে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই লালন। এছাড়া গ্রামে গ্রামে মন্দির, মসজিদ নির্মাণে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন সম্প্রীতির বার্তা।
শূন্যতাকে জয় করে তিনি আজ পূর্ণতা জয়ী লালন। আউশগ্রামের জঙ্গলমহলের গেঁড়াই গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন দুঃস্থ পরিবারে। জন্ম থেকেই খাদ্যের জন্য লড়াই তাঁকে চিনিয়েছে শক্তমাটি। আর সেই শক্তমাটিতে জন্মানো গাছের জীবনী শক্তিও দীর্ঘ। মাটির গভীর থেকে সে রস নিয়ে আগামীর জন্য বাঁচে। এ যেন সেই লালন! এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে শেখ আব্দুল লালন বলেন, ‘এ গুলো করতে হয়। কিছু নেই এই সংসারে। মানুষের পাশে থাকার মাধ্যমেই আমার কষ্টের দিনগুলোকে আঁকড়ে থাকি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top