জলের পাইপ নিয়ে গন্ডগোলে বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুন, গ্রেপ্তার এক নাবালক-সহ তিন

memari-murder.jpg

ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: জমির উপর দিয়ে জলের পাইপ লাইন যাওয়া নিয়ে বচসা বাধে। তার জেরে শেখ আব্দুর রহমান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন জন। ধৃতদের মধ্যে এক জন নাবালক। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে দুই প্রাপ্তবয়স্কের নাম নূর হক মণ্ডল ও সফিক মণ্ডল। সম্পের্ক তাঁরা দাদা-ভাই। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার গোবিন্দপুরে। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন মৃতের পরিজন।
মেমারি থানার তালপাতা গ্রামে বাড়ি মনসুরা বিবির। তাঁর বাপের বাড়ি মেমারির গোবিন্দপুরে। সেখানে জমির উপর দিয়ে জলের পাইপ লাইন যাওয়া নিয়ে তাঁর ভাইদের সঙ্গে এলাকার নূর ও সফিকের পরিবারের বিরোধ বাধে। এ কথা জানার পর গত সোমবার মনসুরা বিবি তাঁর বাপের বাড়িতে যান। ওই দিন মনসুরার ভাইরা জমির উপর দিয়ে পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ায় বাধা দেন। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা বাধে। অভিযোগ, এর ঘণ্টাখানেক বাদে নূর ও সফিক-সহ কয়েক জন ছুরি, কাটারি নিয়ে মনসুরার ভাইদের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা মনসুরার ভাই ও ভাইপোদের খুনের হুমকি দিয়ে যায়। এরপর একই দিনে বিকাল ৪টে নাগাদ গোবিন্দপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ায় মনসুরা তাঁর ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে যান। সেখানে নূর, সফিক-সহ কয়েক জন তাঁদের তাড়া করে। মনসুরাকে ধরে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তাঁকে মার খেতে দেখে বাঁচাতে যান ভাই শেখ আব্দুর রহমান। নূর, সফিক ও তাদের সঙ্গীরা তাঁকেও প্রচণ্ড মারধর করে। দু’জনকে উদ্ধার করে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আব্দুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, তাঁকে বর্ধমানের বামবটতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুরো ঘটনার কথা জানিয়ে মনসুরা মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পিটিয়ে খুনের ধারায় মামলা রুজু করে মেমারি থানার পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এবং বাকি অভিযুক্তদের হদিশ পেতে নূর ও সফিককে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার সমীর ঘোষ। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম পাঁচ দিন মঞ্জুর করেন। ধৃত নাবালককে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হলে, তাকে আড়িয়াদহ ধ্রুবাশ্রমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top