ডার্ক ওয়েব থেকে খাগড়াগড়, কালিয়াচক-হত্যাকাণ্ডে কি এ সবেরও যোগ?

IMG-20210620-WA0018.jpg

মালদহ: ক্রমশ জটিল হচ্ছে কালিয়াচক (Kaliachak) খুনের ঘটনা।
একদিকে তদন্তকারীদের সন্দেহ, ডার্ক ওয়েবে অস্ত্র কেনাবেচা করত ধৃত আসিফ। সেই সঙ্গে আবার নাম জড়াচ্ছে সন্ত্রাসবাদের। কারণ অভিযুক্ত মহম্মদ আসিফের (Mohd. Asif) বাড়ি কালিয়াচকের পুরাতন ১৬ মাইলে। ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাড়ি খাগড়াগড় (Khagragarh) কাণ্ডে ধৃত জিয়াউল হকের। জিয়াউল পেশায় শিক্ষক। মাদ্রাসার ছাত্রদের সে জঙ্গি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করতে বলে অভিযোগ। জিয়াউলের সঙ্গে আসিফের যোগসূত্রের ব্যাপারটা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
দেখা গিয়েছে, কম্পিউটারে আসিফের (Mohd. Asif) অসাধারণ দক্ষতা। সেই সূত্রেই সে ডার্ক ওয়েবে অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তা ছাড়া, গত ১০ মার্চ সাইবার অপরাধের অভিযোগে পুলিশি জেরায় পড়েছিল সে। কিন্তু তখন বিন্দুমাত্র ভেঙে পড়েনি। অথচ তার আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি চার পরিজনকে হত্যা করেছে আসিফ।
মা, বাবা, বোন ও দিদাকে হত্যার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। কোনওমতে প্রাণে বাঁচেন তাঁর দাদা আরিফ। প্রথমে জানা গিয়েছিল, তাদের বাড়িতে একাধিক কফিনের দেখা মিলেছে। যার মধ্যে পুরে খুন করা হয়েছে চানজনকে। কিন্তু পরে জানা যায়, ঘটনাটা তেমন নয়।
ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে সে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় সকলকে। তারপরে বাড়ির সুড়ঙ্গ পথে পাশে গুদামের মতো দেখতে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ছবি তোলার নাম করে সকলকে একটি জলাশয়ে ফেলে খুন করে। আরিফই কোনও রকমে পালাতে পারেন। কেন এই খুন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। তবে সম্পত্তি হাতানোর লক্ষ্যে তা করা হয়ে থাকতে পারে।
এই ঘটনায় শনিবার সকালে প্রথমে ধরা হয় আসিফকে (Mohd. Asif)। পরে তার দুই বন্ধুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র এবং বুলেট উদ্ধার হয়। যা দেখে ডার্কওয়েবে অস্ত্র কেনাবেচার প্রসঙ্গ উঠছে। এই দুই বন্ধু হলেন সাব্বির আলি এবং মাহরুফ আলি। দু’জনেরই বয়স ২০-২২ এর মধ্যে। পাঁচটি ৭ এমএম পিস্তল এবং ৮০টি গুলি উদ্ধার হয়েছে তাঁদের বাড়ি থেকে। মিলেছে ১০টি ম্যাগাজিন। এই দু’জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আসিফের (Mohd. Asif) বিরুদ্ধে খুনের পাশাপাশি অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। সাব্বির ও মাহরুফের বিরুদ্ধেও অস্ত্র আইন দেওয়া হয়েছে।
মালদহের (Maldah) পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে জানান, ৭ থেকে ৮ দিন আগে আসিফ বন্ধুদের অস্ত্র এবং গুলি রাখতে দিয়েছিল। এমনটাই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে খুন এবং অস্ত্র রাখার সঙ্গে এখনও কোনও মিল পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসিফ সবাইকে বলত একটি অ্যাপ বানানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা ও পারেনি। নানা ধরনের কম্পিউটার, বহু মোবাইল ফোন ইত্যাদি পাওয়া গিয়েছে ওই তরুণের কাছে সেগুলির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিকে, আসিফ আর খাগড়াগড় কাণ্ডে ধৃত জিয়াউলের বাড়ি খুব কাছাকাছি। ২০১৪- অক্টোবরে খাগড়াগড় (Khagragarh) বিস্ফোরণ হয়। এনআইএ-র দাবি, শিমুলিয়া এবং মকিমনগরের মাদ্রাসায় অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের জঙ্গি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করত জিয়াউল। যদিও জিয়াউলের পরিবার জানিয়েছে, আসিফ তাদের বাড়িতে অন্তত আসত না। তাদের সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। জিয়াউল বর্তমানে জেলবন্দি।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, সম্পত্তি বিক্রি করে চলে যাবে বলে জানিয়েছিল আসিফ। বাংলাদেশে চলে যাওয়ার কথাও জানায়। এই বিষয়টি তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। বাংলাদেশের নাম কেন জানিয়েছিল সে!
সম্প্রতি জমি, বাড়ি বিক্রির জন্য এলাকার এক দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বলে খবর। কিন্তু তিনি আসিফের বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান। তার পরেই ওই দালালকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে সে।
রবিবার আসিফকে (Mohd. Asif) ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অস্ত্র আইনে ধৃত দুই বন্ধু সাব্বির ও মাহরুফের চার দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top